১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:বুধবার, ২৯ জুলা ২০২৬ ০৮:০৭
স্টাফ রিপোর্টার:- মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে আদালতে মামলা দায়েরের জেরে এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারীর পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কন্যা এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এমনকি প্রাননাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ প্রতিবেশী জিতু মিয়া গংদের বিরুদ্ধে।
স্হানীয় সূত্র জানায়, গৃহবধূ রোনা আক্তার রোবিনার স্বামী আবুল কালাম দীর্ঘ দিন যাবত জিবিকার তাগিদে প্রবাসে বসবাস করছেন।
তার স্বামী প্রবাসে থাকায় ১০ বছর বয়সী কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস তুলিকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছেন। রোনার শ্বশুরের দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্বও মূলত তার প্রবাসী স্বামী বহন করেন।
বছর খানেক পূর্বে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গৃহবধূ রোনা আক্তার রোবিনাকে তার প্রতিবেশী জিতু মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রোনা আক্তার রুবিনার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে তার শোর চিতকারে স্হানীয় লোকজন এসে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতাল চিকিৎসা করান। এঘটনায় রোনা আক্তার রুবিনা বাদি হয়ে
মোঃ জিতু মিয়া (৫২), মোঃ রাসেল মিয়া (২৬), মোঃ সাজু মিয়া (২৩), মোঃ রাজু মিয়া (২২), মোছাঃ রাবিয়া বেগম (৪৮), মোছাঃ তানজিনা বেগম (২৮), মুতি মিয়া (৪৭), ছালেমা খাতুন (৪২), মৌসুমী আক্তার (২৮), রৌশনা আক্তার (২২) কে আসামী করে আদালত একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরও আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে নিরীহ পরিবারকে ক্রমাগত হত্যার
ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৪ জুলাই সকালে জিতু মিয়া গংরা সংঘবদ্ধ হয়ে রুবিনাকে মারধর করতে চেষ্টা করে।পরে স্হানীয় লোকজন তাদের হামলা থেকে রক্ষা করেন।
পরে রোনা আক্তার রুবিনা প্রানে বাঁচতে পুনরায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারায় মামলা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন , আদালতে মামলা করার পর থেকে বিবাদীপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার পরিবারকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গৃহবন্দী করে রেখেছে। এ কারণে তার কন্যা দাসপাড়া ব্র্যাক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে দাসপাড়া ব্র্যাক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হুসনা আক্তার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগটি তার কাছে এসেছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
Helpline - +88 01719305766