আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো যাবে না : কয়েস লোদী

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১১ সেপ্টে ২০২৬ ০৮:০৯

আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো যাবে না : কয়েস লোদী

Manual6 Ad Code

সুরমাভিউ:-  সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) হিসেবে মনোনীত হওয়ায় সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে সংবর্ধনা দিয়েছে তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁকে এ সংবর্ধনা জানানো হয়।

Manual5 Ad Code

একই অনুষ্ঠানে তপোবন মডেল আবাসিক এলাকার আধুনিক ‘সিকিউরিটি সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নবনিযুক্ত সিউক চেয়ারম্যান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Manual6 Ad Code

তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতির সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি মুহিত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাক্তার মাহফুজ হাসান খানের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাহির মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আবাসিক এলাকায় আবাসিক বাসার অনুমোদন নিয়ে কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো যাবে না। আবাসিক এলাকার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও বসবাসের উপযোগিতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সিলেটকে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেটের ভৌগোলিক বাস্তবতায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ঝুঁকিমুক্ত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং আবাসিক এলাকায় অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

কয়েস লোদী আরও বলেন, “সিলেটকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং আবাসন এলাকাগুলোর সার্বিক উন্নয়নে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তপোবন আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে সিকিউরিটি সিস্টেম চালুর মতো উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুকরণীয়।”

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; পরিকল্পিত আবাসন, সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি উন্নত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে মুহিত চৌধুরী বলেন, একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু, নারী, প্রবীণ ও সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

Manual7 Ad Code

আবাসিক এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক সিকিউরিটি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর ফলে বহিরাগতদের চলাচল পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বাসিন্দাদের সচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণও একটি নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তপোবন জামে মসজিদের সভাপতি আ ন ম ওহীদ কনা মিয়া, তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এস. এস. আই. এইচ. জালালী, তপোবন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মাহমুদুল হোসেন সেজু এবং তপোবন জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা মুফতি নোমান আহমেদ।

বক্তারা নবগঠিত সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সাফল্য কামনা করেন এবং সিলেটের সার্বিক নগর উন্নয়নে তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের ওপর আস্থা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও নিরাপদ সিলেট গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুম আহমদ ও সাংবাদিক আবু জাবের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ