সিলেট-৪ আসনে আমজনতার মতামতে কে বেশি জনপ্রিয় প্রার্থী? জামায়াতের না বিএনপির

প্রকাশিত:Thursday, 13 Nov 2025 09:11

সিলেট-৪ আসনে আমজনতার মতামতে কে বেশি জনপ্রিয় প্রার্থী?  জামায়াতের না বিএনপির

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে দলের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধ গত কয়েকদিনে আরো প্রকাশ্যে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অংশ হিসেবে যারা মনোনয়ন পেয়েছে মাঠপর্যায়ে তাদের অবস্থান নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য না করলেও, যাচাই বাছাইয়ের পর ঘোষিত ‘প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাতে’ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির নেতারা।

Manual3 Ad Code

বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সহিংসতা না ঘটলে ও সিলেট ৪আসনে মনোনয়ন দিতে মশাল মিছিল নানান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, গোয়াইনঘাট উপজেলা ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে
এক জনমত জরিপে দেখা গেছে বেশিরভাগ ভোটাররা স্থানীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া পক্ষে কথা বলছেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই বহিরাগত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উনি সিলেট শহরের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হেকিম চৌধুরী উনার পৈতৃক বাড়ী বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নে অবস্থিত থাকলে ও কয়েকযোগ ধরে উনি গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীর গাওয়ে বসবাস করছেন বলে স্থায়ীরা জানিয়েছেন। এদিকে স্বঘোষিত বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত দাবিদার বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়ের আরিফুল হক চৌধুরী ৪আসনের প্রার্থীতা ঘোষণার পর থেকে এই আসনে সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই আসনটি জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন ভোট যুদ্ধে জয়ী হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে গোয়াইনঘাট ,কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সাথে সুরমা ভিউ ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে ভোটাররা জানান, এই আসনের স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হেলাল উদ্দিন আহমদ সবচেয়ে জনপ্রিয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দিত্বীয় স্থানে রয়েছেন জামাত প্রার্থী জয়নাল আবেদিন। আব্দুল হেকিম চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের মন্ত্রীর আশির্বাদপোষ্ট থাকায় ও বিগত আন্দোলন সংগ্রামের সময় উনি মন্ত্রী ইমরান আহমদের সাথে প্রায়ই বিভিন্ন প্রোগ্রামে দেখা যেতো সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো যে যায় যে কারণে সাধারণ ভোটারদের মতে উনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

এছাড়াও গোয়াইনঘাটের বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম চৌধুরী আওয়ামী লীগ আমলে ১৬ বছর নির্বিঘ্নে ছিলেন, কোনো মামলার মুখোমুখি হননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদের ঘনিষ্ঠ হয়ে সরকারি লুটপাটে অংশ নেন এবং বিএনপিকে নিষ্ক্রিয় রাখেন। হেকিমের প্রভাবে গোয়াইনঘাটে সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন হয়নি, বরং পাথর-বালুর সিন্ডিকেট ও চোরাচালানে তিনি আওয়ামী নেতাদের সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Manual1 Ad Code

একই অভিযোগে ভোটারদের কাছে অভিযুক্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়ের আরিফুল হক চৌধুরী নানান সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মিটিংয়ে নিজে উপস্থিত থেকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওমী বিএনপি উপাধি পেয়েছিলেন আলোচিত সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সাংগঠনিক কাজে দক্ষতা অর্জন থাকলে ও বহিরাগত হিসেবে সুবিধা করতে পারছেন না কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফিতা সিদ্দিকী। একজনমতে জানা যায় , কেন্দ্রীয় বিএনপির পদবীধারী হওয়া মিফতা সিদ্দিকীর ডাকে সারা দিতে হচ্ছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের কিন্তু স্থানীয় ভোটারদের কাছে উনি আশানুরূপ পৌঁছাতে পারেন নি।

স্থানীয় সাধারণ ভোটার রহিম উদ্দিনের সাথে আলাপ কালে উনি জানান, বিএনপি এই আসনে প্রার্থী বাচাইয়ে ভূল সিদ্ধান্ত নিলে হাত ছাড়া হতে পারে এই আসন জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী ঘরে ফসল উঠে যেতে পারে। তাই স্থানীয়রা বিএনপির নীতি নির্ধারনী ফোরাম কে প্রার্থী বাছাইয়ে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবী জানান।

এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ড মাঠপর্যায়ে ঘোষিত প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের সঙ্গে প্রার্থীরা কেমন আচরণ করছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্য সৃষ্টি হচ্ছে কি না-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলের সিদ্ধান্ত, যেখানে প্রার্থী ঐক্য গঠনে ব্যর্থ হবেন, সেসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে।

বিএনপি সুত্রে আরো জানা যায় , ‘মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের দায়িত্ব হলো দলের ঐক্য বজায় রাখা ও ক্ষোভ প্রশমন করা। তারা ব্যর্থ হলে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে মনোনয়নবঞ্চিতরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দল শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেবে।’

Manual6 Ad Code

সব মিলিয়ে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন নির্বাচনী প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ