আলোকিত জনপদ জগদল ইউনিয়ন : উন্নয়নের ভিড়ে শুধু একটি রাস্তার হাহাকার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২১ এপ্রি ২০২৬ ০২:০৪

আলোকিত জনপদ জগদল ইউনিয়ন : উন্নয়নের ভিড়ে শুধু একটি রাস্তার হাহাকার

Manual7 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

​সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত জগদল ইউনিয়ন। হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের কাছে জগদল এক অনন্য নাম। শিক্ষা, সংস্কৃতি আর সামাজিক কাঠামোর দিক থেকে এই ইউনিয়নটি শুধু দিরাই নয়, বরং পুরো জেলার মধ্যে একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। তবে এত সব প্রাপ্তির ভিড়ে একটি দীর্ঘশ্বাস এখনো জগদলবাসীর নিত্যসঙ্গী— আর তা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা।

ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ​জগদল ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো এর শিক্ষিত জনপদ। এলাকাবাসীর স্বউদ্যোগে এবং শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহের কারণে এখানে শিক্ষার হার ঈর্ষণীয়। ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে এখন শিক্ষার আলো পৌঁছে গেছে। উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে রয়েছে দুটি কলেজ এবং চারটি উচ্চ বিদ্যালয়। শুধু সাধারণ শিক্ষাই নয়, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও জগদল এক অনন্য উচ্চতায়। একটি আলিয়া মাদ্রাসা, অসংখ্য কওমি মাদ্রাসা এবং চারটি মহিলা মাদ্রাসার অবস্থান প্রমাণ করে এই জনপদ কতটা সংস্কৃতিমনা ও সচেতন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে রয়েছে অগণিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আধুনিকতার স্পর্শ
​সাধারণত গ্রামীণ জনপদে নাগরিক সুবিধার ঘাটতি থাকলেও জগদল এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিচারে এখানে রয়েছে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, যা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আইনি ও দাপ্তরিক প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের মতো স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে এক বিশাল অর্জন— একটি ২০ শয্যার হাসপাতাল। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো প্রায় সব রসদই মজুত আছে এই জনপদে।
​একটি রাস্তার আর্তনাদ
​এত প্রাচুর্য আর অগ্রগতির মাঝেও একটি মৌলিক জায়গায় থমকে আছে জগদল। আধুনিক বিশ্বের সব নাগরিক সুবিধা হাতের নাগালে থাকলেও, ইউনিয়নটির সবচেয়ে বড় সংকট হলো একটি উন্নত সড়ক। যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ছাত্রছাত্রী, রোগী এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
​শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের এমন শক্তিশালী কাঠামো থাকার পরও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়াটা স্থানীয়দের কাছে এক বিরাট পরিহাস। এলাকাবাসীর আক্ষেপ— “আমাদের ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো আছে, হাতে হাতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আছে; নেই শুধু নিরাপদে চলার মতো একটুখানি পাকা পথ।”

​জগদল গ্রাম ও ইউনিয়ন আজ উন্নয়নের এক অনন্য উচ্চতায় দাঁড়িয়ে। এখানকার মানুষের কঠোর পরিশ্রম আর মেধা এই জনপদকে সমৃদ্ধ করেছে। এখন শুধু প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা। দিরাইয়ের এই ঐতিহ্যবাহী জনপদকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক রূপ দিতে একটি টেকসই রাস্তা এখন সময়ের দাবি। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই সংকট দূর হলে জগদল ইউনিয়ন হবে এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
​প্রশাসন কি শুনবে জগদলবাসীর এই প্রাণের দাবি? নাকি উন্নয়নের চাকায় জং ধরিয়ে দেবে ভাঙা রাস্তার দীর্ঘশ্বাস?

হেলাল আহমেদ, চ্যাপ্টির হাওর থেকে ::
আলোচক ও সমালোচক।

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ