জগদলের উন্নয়ন: ‘আন্ধাইর ঘরের বাত্তি’ নাকি ‘শুকনা ভাতের আশ’?

প্রকাশিত:শনিবার, ১১ এপ্রি ২০২৬ ১১:০৪

জগদলের উন্নয়ন: ‘আন্ধাইর ঘরের বাত্তি’ নাকি ‘শুকনা ভাতের আশ’?

Manual4 Ad Code

হেলাল আহমেদ, চ্যাপ্টির হাওর থেকে :::

Manual5 Ad Code

উন্নয়নের জোয়ারে যখন দেশ ভাসছে, তখন দিরাইয়ের জগদল অঞ্চলের মানুষের দোটানায় কাটে দিন-রাত। উন্নয়নটা ঠিক কী? এটা কি ঘোর অমাবস্যার রাতে হঠাৎ জ্বলে ওঠা ‘আন্ধাইর ঘরের বাত্তি’, নাকি পেট খালি রেখে রাজভোগের স্বপ্ন দেখা ‘শুকনা ভাতের আশ’?
​কালনী ব্রিজের গোড়ায় দাঁড়ালে জগদল, চানপুর, করিমপুর আর মাঠিয়াপুরের মানুষের চোখে যে স্বপ্ন ঝিলিক দেয়, তা মূলত ‘ডিজিটাল মরীচিকা’। হাজার হাজার মানুষের ভরসা যে ‘জগদল-দিরাই রাস্তা’, সেটি এখন ইতিহাসের পাতায় নয়, নেতাদের ‘সাইড বেঞ্চে’ আরামদায়ক ঘুমে বিভোর।

 

​সাকিতপুরের লটারি আর ‘ক্ষমতার সাইড বেঞ্চ’
​জগদলের রাস্তা যখন ফাইলের তলায় ধুঁকছে, তখন পাশের সাকিতপুর গ্রামে উন্নয়নের বাতি এমনভাবে জ্বলছে যে সাধারণ মানুষ চোখ ধাঁধিয়ে ফেলছে। এক গ্রামের জন্য যদি পুরো রাস্তা বরাদ্দ হয়ে যায়, তবে তাকে কী বলা যায়? এটা কি কেবলই ‘ক্ষমতার দাপট’, নাকি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং চালাকি’?

​এলাকার এক মুরুব্বি আক্ষেপ করে বললেন:
​”বাবা, আমাগো রাস্তা হইলো বাসর ঘরের বাতি—দেখা যায় কিন্তু ধরা যায় না। আর নেতাদের উন্নয়ন হইলো সাকিতপুরের জামাই আদর। আমাগো কপালে কেবল শুকনা ভাতের আশ-ই রইলো।”

Manual3 Ad Code

​উন্নয়নের মহা উৎসব:দিরাই উপজেলার জগদল ও করিমপুর ইউনিয়ন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার ‘খলকলিয়া-চিলাউরা’হলদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা যখন দর্শক,
,জগদল,করিমপুর ​খলকলিয়া, হলদিপুর আর চিলাউরা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এখন এই উন্নয়নের নাটকে ‘দর্শকের’ ভূমিকা পালন করছেন। নেতারা যখন মঞ্চে উঠে উন্নয়নের ‘মহা উৎসব’ পালন করেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—এই উৎসবে কি শুধু বিশেষ বিশেষ গ্রামের দাওয়াত আছে? নাকি জগদল-চানপুরের মানুষগুলো উন্নয়নের মেনু কার্ডে কেবল ‘শুকনা ভাত’ দেখার জন্য আমন্ত্রিত?

​রাস্তার গর্তগুলো এখন এতই বড় হয়েছে যে, বর্ষাকালে সেখানে দিব্যি মাছের চাষ করা সম্ভব। খলকলিয়ার এক যুবক রসিকতা করে বললেন, “রাস্তা দিয়া চলা তো যায় না, তবে নেতারা চাইলে ওই গর্তে ‘উন্নয়নের নৌকা’ বাইচ আয়োজন করতে পারেন।”

Manual7 Ad Code

​আন্ধাইর ঘরের সেই রহস্যময় বাত্তি

​কালনী ব্রিজ থেকে নেমে যখন কাঁচা রাস্তার কাদার সাথে কুস্তি লড়তে হয়, তখন নেতাদের দেওয়া ‘উন্নয়নের বাত্তি’ মোটেও জ্বলে না। এটা আসলে সেই বিশেষ বাত্তি যা কেবল নির্বাচনের আগে মিটিমিটি করে জ্বলে ওঠে, আর নির্বাচনের পর ‘আন্ধাইর’ হয়ে যায়।

​অন্যদিকে, এক গ্রামের জন্য রাস্তার কাজ এগিয়ে যাওয়া দেখে অনেকেই ভাবছেন, রাস্তা কি এখন থেকে ‘ভিআইপি’ এবং ‘সাধারণ’ কোটায় ভাগ হবে? সাকিতপুরের উন্নয়ন কি কেবল দাপটের ফসল, নাকি বাকি গ্রামগুলোর জন্য এটা নিছক ‘চালাকি’?
​উপসংহার
​সব মিলিয়ে জগদল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন এখন এক রহস্যময় গোলকধাঁধা। হাজার হাজার মানুষের স্বপ্নের রাস্তা যখন নেতাদের অবহেলার ডাস্টবিনে, তখন মহাসমারোহে উৎসব করাটা অনেকটা ‘মড়া কান্নার’ মতো শোনায়। জগদলের মানুষ এখন আর ‘শুকনা ভাতের আশ’ চায় না, তারা চায় সাকিতপুরের মতো সমান অধিকার।

Manual6 Ad Code

​নেতারা কি সাইড বেঞ্চ ছেড়ে মাঠে নামবেন, নাকি জগদলের বাত্তি চিরকাল আন্ধাইর-ই থেকে যাবে? উত্তরটা সময়ের পেটে, আর রাস্তার কাদা জগদলবাসীর পায়ে!

আলোচক ও সমালোচক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ