সফল সিসিক: ঘোষণা অনুযায়ী ৮ ঘণ্টাতেই অপসারিত সিলেটের কোরবানির বর্জ্য

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ ০৮:০৫

সফল সিসিক: ঘোষণা অনুযায়ী ৮ ঘণ্টাতেই অপসারিত সিলেটের কোরবানির বর্জ্য

Manual1 Ad Code

সুরমাভিউ:-  পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে পশুর কোরবানির পর মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেট নগরীকে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। সিসিকের পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল ৬টার মধ্যেই নগরের সবকটি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ করে চারপাশ পূর্বের পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে এই কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন।

পবিত্র ঈদুল আজহার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে এবার আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল সিসিক। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ধারাবাহিক সমন্বয় সভা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরী পরিষ্কারের এই দূরূহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় সিলেটে কোরবানিদাতার সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ায়, আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেটবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সচেতন নগরবাসীর যৌথ প্রয়াসেই আজ এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।” এ জন্য সহযোগিতার জন্য তিনি নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

Manual5 Ad Code

বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শতভাগ সফল করতে ঈদের আগেই সিসিকের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক সচেতনতামূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছিল। কোরবানিদাতাদের তালিকা তৈরি করে সিসিকের নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৩০ হাজার পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ ও পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া নাগরিকদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য চালু ছিল বিশেষ হটলাইন নম্বর।

Manual6 Ad Code

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবার নগরে অনুমোদিত ১টি স্থায়ী ও ৫টি অস্থায়ী পশুর হাট ছাড়াও বেশ কিছু স্থানে অবৈধভাবে পশু কেনাবেচা হয়েছিল। তবে বুধবার রাত থেকেই সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ওইসব হাটের বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শুরু করে দেন। বৃহস্পতিবার মূল বর্জ্য অপসারণ কাজে সহস্রাধিক শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে সিসিকের নিজস্ব ৬০টি ট্রাকের পাশাপাশি ভাড়ায় চালিত আরও ৫৫টি ভারী ট্রাক ও ডাম্পার ব্যবহার করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, “বিকেল ৫টার মধ্যেই নগরের প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি থাকা সামান্য উচ্ছিষ্টও নির্ধারিত সময় অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

Manual4 Ad Code

কাজ শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন বলেন, “নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও আমাদের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমরা এই রেকর্ড সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পর জীবাণু ও দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে পুরো নগরীতে ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে।”

সফলভাবে এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সম্মানিত নগরবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, ঈদের পরবর্তী দিনগুলোতেও (যদি কেউ দেরিতে কোরবানি দেন) একইভাবে সিসিককে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ