সংস্কারের প্রলেপে দুর্নীতির ক্ষত: জগদল-মাটিয়াপুর সড়কের টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ০৩:০৩

সংস্কারের প্রলেপে দুর্নীতির ক্ষত: জগদল-মাটিয়াপুর সড়কের টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?

Manual4 Ad Code

হেলাল আহমেদ,দিরাই,সুনামগঞ্জ থেকে :

Manual6 Ad Code

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল-মাটিয়াপুর সড়ক সংস্কার কাজে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বছরের অর্ধেক সময় পানির নিচে নিমজ্জিত থাকা এই স্পর্শকাতর সড়কে পাথরের সাথে লেগে থাকা কাদা-মাটি পরিষ্কার না করেই চলছে ঢালাইয়ের কাজ। সাথে মেশানো হচ্ছে নিম্নমানের বিট বালু। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন ‘হরিলুটে’ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এদিকে,মাঠিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ (৩৫) জানান, তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডি প্রকৌশলীকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না।

হাওর এলাকার এই সড়কটির বৈশিষ্ট্য হলো, বছরের ৬ মাস এটি গভীর পানির নিচে থাকে এবং বাকি ৬ মাস যানবাহন চলাচল করে। পানির প্রবল ঢেউ ও স্রোত সহ্য করার জন্য এই সড়কে উন্নতমানের উপকরণ ব্যবহারের কঠোর নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার স্রেফ দায়সারাভাবে কাজ শেষ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরের গায়ে লেগে থাকা কাদা-ধুলো ও মাটি পরিষ্কার না করেই ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বিটুমিনের সাথে পাথরের সঠিক বন্ডিং হবে না। এতে বর্ষা আসার আগেই রাস্তাটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কার কাজে ব্যবহৃত পাথরগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কাদা মিশ্রিত। নিয়ম অনুযায়ী পাথর ধুয়ে পরিষ্কার করে ব্যবহার করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এর ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে চিকন বিট বালু, যা ঢালাইকে অত্যন্ত দুর্বল করে দিচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, “রাস্তাটি এমনিতেই পানির নিচে থাকে, তার ওপর কাদা মেশানো পাথর দিয়ে কাজ করলে এটি এক মাসও টিকবে না। এটি সংস্কার নয়, বরং সরকারি টাকার অপচয়।”

Manual6 Ad Code

জনগুরুত্বপূর্ণ এই কাজের মান তদারকি করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা সড়কের এই ভয়াবহ অনিয়মের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। সরকারি কর্মকর্তার এই অনুপস্থিতি ও নীরবতা ঠিকাদারকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Manual7 Ad Code

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,এমন অনিয়ম দুর্নীতি আমরা কঠিন হাতে প্রতিরোধ করতে বদ্ধপরিকর। এই দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের চিহ্নিত করে লাইসেন্স বাতিল করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সড়কটি দিরাইয়ের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কারের নামে এই ‘নাটক’ বন্ধ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে টেকসই কাজ নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন জগদল ও মাটিয়াপুরবাসী। অন্যথায়, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ