৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২১ এপ্রি ২০২৬ ০৩:০৪
সুরমাভিউ:- ১মে ১৪১-তম আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস মহান মে দিবসে খানাদানা বেতনসহ সর্বাতœক ছুটি কার্যকর করার দাবিতে জেলা প্রশাসক সিলেট বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং চট্ট-১৯৩৩)।
২১ এপ্রিল বেলা ১১ঘটিকার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা’র নিকট স্মারকলিপি পেশ করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শাহপরান থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি আলীম উদ্দিন, বাবনা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জিন্দাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ শাহপরান থানা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে মহান মে দিবস আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের দিন। দেশের অন্যান্য সরকারী-বেসরকারী সেক্টরের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায় মে দিবসের দিন হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদেরকে আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়। খানাদানা বেতনসহ মে দিবসের দিন মালিকরা শ্রমিকদের ছুটি দিতে নানা টালবাহানা করে থাকেন। সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মালিক, মালিক সমিতিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এ ব্যাপারে অবগত করলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয় গত ০৫ মে ২০২৫ হোটেল-রেস্টুরেন্ট শিল্প সেক্টরে সরকারের নি¤œতম মজুরি হার ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই নি¤œতম মজুরি বর্তমান বাজারদর এবং ৬ সদস্যদের একটি পরিবারের ভরণপোষণের প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের দাবি থেকে অনেক কম। কিন্তু তারপরও সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি ঘোষিত হওয়ার পর প্রায় এক বছর হতে চললেও তা সর্বস্তরে কার্যকর করা হয়নি। তদোপুরি হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের শ্রমআইনের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যূতিজনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ১ মাসের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১৩ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ হোটেল মালিকপক্ষ সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নির্বিকার।
এমতাবস্থায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শ্রমমন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ নুরুল হক এর উপস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে নি¤œতম মজুরি বাস্তবায়নের জন্য ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা দেওয়া পরও সিলেট জেলায় হোটেল রেস্তোরাঁ খাতে নি¤œতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের কার্যকর কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। এমনকি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমআইন বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি ও শ্রমআইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা থেকে শ্রমিকরা বঞ্চিত। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও হোটেল শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য হয়। দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হতে হয়। যার কারণে হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। শ্রমিকদের ক্ষোভ যাতে বিক্ষোভে পরিণত হয়ে স্বাভাবিক শ্রম পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে যে সকল হোটেল-প্রতিষ্ঠানসমূহে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি বাস্তবায়ন হয়নি তার আংশিক তালিকা স্মারকলিপিতে সংযুক্তি হিসেবে প্রদান করা হয়।
একই দিনে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। যার অনুলিপি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সিলেট জেলা বরাবর প্রেরণ করা হয়।
Helpline - +88 01719305766