মৌলভীবাজারে স্বামীর সম্পত্তি দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:রবিবার, ২৬ জুলা ২০২৬ ০৮:০৭

মৌলভীবাজারে স্বামীর সম্পত্তি দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Manual6 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক:-  স্বামীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া মার্কেট ও স্থাবর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা, ভাড়া আত্মসাৎ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মনোয়ারা খানম।
রোববার (২৬ জুলাই ) বিকেল ৪টায় মৌলভীবাজার শহরের মামার বাড়ি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ারা খানম জানান, তার স্বামী মরহুম মো. সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন কাতারে বসবাস করতেন। সেখানে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকায় সিরাজ শপিং সিটি ক্রয়সহ বিভিন্ন স্থানে জায়গা-জমি কিনেছিলেন। ওই মার্কেট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ভাড়া আসত, যা দিয়ে পরিবারের ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া এবং তার স্বামীর চিকিৎসা চলত।
তিনি বলেন, তার স্বামী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রতি সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হতো। এ অবস্থায় তার স্বামীর ভাগনে এমদাদ মিয়া ও কয়েকজন স্বজন অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে মার্কেটের ভাড়া আত্মসাৎ এবং সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, ২৩ মার্চ ২০২৫ সালে  তার স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে জোরপূর্বক সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি ও তার সন্তানরা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি তাদের মারধরও করা হয়। হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতালের বিলের নামে মার্কেটের অগ্রিম ভাড়া থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও প্রকৃত চিকিৎসা না করিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মনোয়ারা খানম আরও অভিযোগ করেন, গত চার মাসে সিরাজ শপিং সিটির ভাড়া বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তার স্বামীকে বাড়িতে এনে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়। তাকে ও সন্তানদের স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। খবর পেয়ে সেখানে গেলে ভাগনে এমদাদ ও তার সহযোগীরা তাকে, ছেলে হাসান আল মামুন ও মামুন এবং মেয়ে শারমিন সুলতানাকে একটি ঘরে আটকে মারধর করেন।
এ ঘটনায় তিনি মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। এছাড়া তার ছেলে হাসান আল মামুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি আর মামলা নং-৫৩০/২০২৬ দায়ের করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার ৮০ বছর বয়সী শাশুড়িকে বাদী সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। বিপুল অর্থ আত্মসাতের পরও অভিযুক্তরা এখন মার্কেট ও জায়গা-জমি বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করছে এবং তাকে ও তার সন্তানদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ কারণে সন্তানদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তার সতীন কলি আক্তার স্বামীর অসুস্থতার খবর পেয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে দেখতে গেলে তাকেও আটকে রেখে অর্থ দাবি করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি পরে লন্ডনে ফিরে যান।
মনোয়ারা খানমের অভিযোগ, তার স্বামী ৪ এপ্রিল মারা গেলেও তাকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। তিনি দাবি করেন, যথাযথ চিকিৎসা না করিয়ে চিকিৎসার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করায় তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত হননি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত এমদাদ মিয়া আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না বলে হুমকি দিয়ে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ারা খানম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিজের ও সন্তানদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এমদাদ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, “আমি এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছি। তারা হয়তো সেটি আপনাদের কাছে দেয়নি। আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস থাকে, তাহলে আপনি নিউজ করতে পারেন। আর যদি ডকুমেন্টসের ঘাটতি হয়, আপনি আমার নামে রিপোর্ট করেন, আমি কিন্তু আইনের ব্যবস্থা নেবো।
এ বিষয়ে কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চলতি দায়িত্বে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. বেলাল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “আমি শুনেছি, তারা এর আগে একটি সালিশ বৈঠক করেছে। মৃত্যুসনদ প্রস্তুত হলে মরহুম সিরাজ মিয়ার বৈধ ওয়ারিশ সন্তানদের তা দেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ