বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ০৮:০৬

বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Manual5 Ad Code

সুরমাভিউ:-  সিলেট ও সুনামগঞ্জ নৌপথে বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও প্রশাসনের অসহযোগিতার প্রতিবাদে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নৌযান শ্রমিকরা।

Manual7 Ad Code

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ড. রাগীব আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এই তীব্র ক্ষোভ ও জানমালের নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়।

Manual7 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকদের পক্ষে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগঠনের গোয়ানঘাট শাখা সভাপতি সুমন আহমেদ অভিযোগ করেন, তারা সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চল থেকে বালু, পাথর ও কয়লা দেশের বিভিন্ন নৌবন্দরে স্বল্প মূল্যে পরিবহন করে উন্নয়ন কাজে অবদান রাখছেন। কিন্তু সিলেট-সুনামগঞ্জ লাইন থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে তারা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজ চক্রের হাতে চরম হেনস্থা, মারধর ও সর্বস্ব হারানোর শিকার হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৩ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলায় বালু আনতে গেলে একদল চাঁদাবাজ জাহাজে এসে শ্রমিকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এ নিয়ে পরদিন ১৪ জুন বিকেলে গোয়াইনঘাট বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয়ে শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ মিলে সমাধানের জন্য আলোচনা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে গোয়াইনঘাটের কুখ্যাত চাঁদাবাজ আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে ট্রলারযোগে এসে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, এই হামলার পর তারা গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ কোনো আইনি সহযোগিতা তো করেইনি, উল্টো তাদেরকে থানার বারান্দা থেকে বের করে দেয়।

এমনকি ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বারবার নিরাপত্তা চেয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এই সুযোগে চাঁদাবাজ চক্র পুলিশের নামে ৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে ২ হাজার টাকা এবং হিজড়াবাহিনী দিয়েও জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে।

বক্তব্যে নৌপথে চলমান চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে শ্রমিকরা বলেন, গোয়াইনঘাট থেকে একটু সামনে এগোলেই বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে চলন্ত নৌকা থেকে প্রতি ফুট হিসেবে ১ টাকা করে কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের ইজারার ইতিহাসে নজিরবিহীন জুলুম। এরপর সালুটিকর ও বাদাঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে শ্রমিকদের মারধর করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ছাতক এলাকায় পৌঁছালে আবারও বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে চলন্ত নৌকা থেকে এককালীন ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই বাল্কহেড থেকে দুইবার অবৈধভাবে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

তারা অভিযোগ করেন, এই চাঁদাবাজির সাথে ইজারাদাররাও জড়িত। চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যেই দম্ভোক্তি করে যে, প্রশাসন তাদের কিছুই করবে না। গত ১৪ জুন নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বশীল ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করার পরও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নৌযান শ্রমিকরা প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন :
১. সিলেটের গোয়াইনঘাটে দ্রুত একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।
২. রাতে লোড পয়েন্টগুলোতে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে।
৩. সকল ধরনের অবৈধ চাঁদা ও ‘মার্কা’র নামে চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৪. সরকারি নিয়মের বাইরে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অনতিবিলম্বে এই নৌ-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে শ্রমিকরা যেকোনো সময় সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ করে যুগপৎ কর্মবিরতি দিতে বাধ্য হবেন। একই সাথে সিলেটের গোয়াইনঘাটকে ব্যবসার জন্য একটি সম্পূর্ণ ‘অনিরাপদ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকরা বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), নৌ পুলিশ প্রধান, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Manual6 Ad Code

বাল্কহেড শ্রমিকদের মাঝে সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, মো: রাতুল ইসলাম, রাসেল, সোহেল, জামাল, শাহিন, ফারুক।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী বাল্কহেড শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ