২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ১০:০৬
খন্দকার সাহেদ হাসান:- গড়ে তুলতে হবে অদৃশ্য সামরিক স্থাপনা। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সামরিক শক্তির বিকল্প নেই। তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য সামরিক শক্তি বাড়ানো খুব জরুরি। এ বিষয়ে জনগণের সচেতন হওয়া উচিত এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারেরও নিজ উদ্যোগে দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত জরুরি।
আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে শত্রুর বিষদাঁত সমূলে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে আপোষহীন থাকতে হবে, কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি মানা যাবে না।
আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চতর প্রশিক্ষণ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক রাডার, বিমান, সাবমেরিন, জ্যামারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করতে হবে। পাশাপাশি ট্যাংক, জাহাজ, বিমান এবং বাংকার-বিধ্বংসী শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিজ দেশের মাটিতে, এক হাজার ফুট গভীরে অবস্থিত একাধিক কারখানায় তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানসহ যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য মাটির ভূগর্ভে এক হাজার ফুট গভীরে আধুনিক একাধিক কমান্ড সেন্টার থাকতে হবে। সেখানে থাকবে অস্ত্রভান্ডার, খাদ্য, পানি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা। দীর্ঘ টানেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নৌ, সেনা ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিজ্ঞানীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
জাতীয় সংসদের আদলে মাটির গভীরে একটি মিনি সংসদ তৈরি করা যেতে পারে। টানেলে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সিটি থাকতে হবে। এ ধরনের স্থাপনা জেলা, উপজেলা ও বিভাগভিত্তিক বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়ের গভীরে অথবা কৌশলগত স্থানে নির্মাণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি সেখানে একটি সামরিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন। গঠন করতে হবে আলাদা রকেট ফোর্স বাহিনী। মাটির ভূগর্ভে এ ধরনের কমপক্ষে দশ হাজার টানেল ও বাংকার নির্মাণ করতে হবে দেশ রক্ষার জন্য। শহরভিত্তিক যেসব সামরিক সদর দপ্তর রয়েছে, সেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় জনসম্মুখে শুধু দৃশ্যমান থাকবে। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে কৌশলগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দশ হাজার নকল সামরিক স্থাপনা, পুতুল সৈনিক ও প্লাস্টিকের সামরিক সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। যেমন—সাগরে প্লাস্টিকের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও ফ্রিগেট দিয়ে সাজিয়ে রাখা হবে একাধিক নকল সামরিক ঘাঁটি। সেখানে বিমান, কামান, ট্যাংকসহ নানা ধরনের নকল সামরিক স্থাপনা থাকবে। এগুলো তৈরি করা হবে শুধু শত্রুকে বিভ্রান্ত করার জন্য। এতে শত্রুপক্ষের বিপুল সামরিক শক্তি সহজেই ধ্বংস করা সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক যেসব ভবন নির্মাণ করা হবে, সেগুলোর নিচে বা আশপাশে বাধ্যতামূলকভাবে কংক্রিটের বাংকার নির্মাণ করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা কমে আসবে। হঠাৎ যুদ্ধ শুরু হলে এসব স্থাপনা সহজে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই এগুলো আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখতে হবে। একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে দেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব সরকারের। তাই এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্বুদ্ধ করা জনগণের দায়িত্ব। এখানে আমি আমার বৃহত্তর সামরিক পরিকল্পনার একটি ক্ষুদ্র অংশ তুলে ধরলাম।
লেখক: ইউরোপপ্রবাসী লেখক ও সামরিক গবেষক
Helpline - +88 01719305766