৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ ০১:০৬
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করা প্রধান আসামি সোহেল রানা চার্জগঠন শুনানির দিন আদালতে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি হত্যার দায় অন্য ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন এবং নিজেকে কেবল ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন।
সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। শুনানির জন্য সকাল পৌনে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়।
পরে বেলা ১১টার পর বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে উভয় আসামিকে হাজির করা হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলে, সে একা দোষী না এবং তার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। সে দাবি করে, ‘আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানায়, সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক। এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে এই আসামি।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই আহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠায়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু জানান, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকবে।
এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হলেও রায়ের পর কার্যকর প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে, যা আপিল ও উচ্চ আদালতের ধাপের ওপর নির্ভর করবে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আজ শুনানির দিনে এসে প্রধান আসামি নতুন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করল।
শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে চলমান এই মামলাটি বর্তমানে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
Helpline - +88 01719305766