জগন্নাথপুরের ইউএনও নিজেকে মন্ত্রী এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান মেয়র ভাবেন নেন এসব পদের অনৈতিক সুবিধা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৪ নভে ২০২৫ ০৬:১১

জগন্নাথপুরের ইউএনও নিজেকে মন্ত্রী এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান মেয়র ভাবেন নেন এসব পদের অনৈতিক সুবিধা

Manual7 Ad Code

জগন্নাথপুর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:-  সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে উঠেছে। উপজেলাবাসীর পক্ষে এ বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট বৃহস্পতিবার  একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের অনুলিপি সচিব সংস্হাপন মন্ত্রণালয় ও দুদক সিলেটের পরিচালক ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক  কে দেয়া হয়।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ নভেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতির ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা  বরকত উল্লাহ। তিনি এ উপজেলায় যোগদান করে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি পদের দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচিত কোন সরকার না থাকায় নিজেকে মন্ত্রী, এমপি, দাবি করে উপজেলার সকল দপ্তরের প্রকল্প থেকে মন্ত্রী,এমপি,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি এই ৫ পদের ৫ ভাগ টাকা আদায় করেন। এছাড়াও সকল প্রকল্প থেকে ৩০ শতাংশ টাকা ঘুষ নেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ, নদী ভাঙ্গন রোধের প্রকল্প ও কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনে মোটা অংকের উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ করা হয়।এছাড়াও উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কার্যালয়ের কয়েক কোটি টাকা প্রকল্প থেকে ৩০ শতাংশ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আশারকান্দি ইউনিয়নের একটি প্রকল্পের ১০.৭০০ টন চালের বরাদ্দ কাজ না করে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি উপজেলার খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী উপজেলার দিঘলবাক এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমীন খানের নিকট থেকে দুই লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়েও ডিলার না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন।

Manual4 Ad Code

রুহুল আমীন খান বলেন, গত এক বছরে ইউএনও বরকত উল্লাহ এ উপজেলায়  রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। তাঁর ঘুষ দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারে উপজেলাবাসী অতীষ্ঠ। তিনি নিজেকে ক্ষমতাসীন কর্মকর্তা দাবি করে অশালীন আচরণ করেন।সুষ্ঠু তদন্ত ক্রমে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অভিযোগ করেছি।

অভিযোগকারী রুহুল আমীন খান বলেন, জগন্নাথপুর নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ সাবেক ছাএলীগ নেতা ও উনার বাবা আওয়ামীগের সহ সভাপতি, তিনি খাদ্য খাদ্য বান্ধব  ডিলার নিয়োগ, আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাকে ডিলার দেন নি। উনি ৫ আগষ্টের পর থেকে এমপি মন্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান  তাদের মতো প্রভাব কাটাচ্ছেন। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করে যাচ্ছে। আমি উনার বিরুদ্ধে বিভাগে কমিশনার, দুদকে লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্ত হলে সব পাওয়া যাবে।।

Manual7 Ad Code

অভিযোগ প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, অভিযোগকারী খাদ্যবান্ধবের ডিলার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ঘরভাড়ার চুক্তি জাল দিয়েছিলেন তাই আমরা,সেটি বাতিল করেছি। বাতিল হওয়া আরেকজন কে নিয়ে তিনি যেদিন সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওইদিন কেন বাতিল করলাম এই চিঠি নিতে চেয়েছিলেন। আমরা পরে নেয়ার জন্য বলায় তিনি ওই সময় বলেছেন বিভাগীয় কমিশনার স্যারের নিকট অভিযোগ করবেন।অভিযোগের অন্য প্রসঙ্গও মিথ্যা,একটাও সত্য নয়।

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হবে।

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ