মৌলভীবাজারে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আপন ভাই বোনসহ গ্রেফতার ৫

প্রকাশিত:বুধবার, ০১ জুলা ২০২৬ ০৬:০৭

মৌলভীবাজারে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আপন ভাই বোনসহ গ্রেফতার ৫

Manual3 Ad Code
মোঃ তাজুদুর রহমান, মৌলভীবাজার:-  মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাইকে অপহরণ করে হত্যা করার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।
পুলিশ জানায়, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই বিরোধের জের ধরে আব্দুল মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য ভাড়াটে লোক নিয়োগ করেন।
২৮ জুন আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মতিন আদালতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পরিকল্পিত চক্রটি তাকে অনুসরণ করে। পরে নির্জন স্থানে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ সদর উপজেলার আপার কাগাবালা ইউনিয়নের  সাতবাক ও দৌলতপুর এলাকার মাঝামাঝি সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে না আসায় নিহতের স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পান। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে স্বামীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
খবর পেয়ে ২৮ জুন রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ