৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ০৮:০৬
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হবিবনগরে সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে বসবাস করে আসা পাঁচটি অসহায় পরিবারকে জোরপূর্বক বাঁশের বেড়া দিয়ে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ জুন (সোমবার) সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও অবরুদ্ধ পরিবারগুলোকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তিন দশক ধরে বসবাস, হঠাৎ অবরুদ্ধ স্থানীয় ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার হবিবনগর (ইকড়ছই মৌজার, খতিয়ান নং-১, জেএল নং-১৭২, দাগ নং-৯৩১ ও ৯৩২) মোট ৩.৫ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে হলুদা আক্তার ও তাঁর অসহায় পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। ভূমিহীন হিসেবে জমিটি স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য এই পরিবারটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আবেদনও করেছেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল স্থানীয় আশিক মিয়া ও আমির আলী গংরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সকালে আকস্মিকভাবে তারা ওই পরিবারের যাতায়াতের রাস্তার মুখে জোরপূর্বক বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এতে হলুদা আক্তারের পরিবারসহ আশেপাশের মোট ৫টি পরিবারের সদস্যরা সম্পূর্ণ গৃহবন্দী হয়ে পড়েন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই পরিবার গুলো না খেয়ে জীবন যাপন করছে, নদীর পানি খেয়ে কোন মতে আছে।
দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ থাকায় পরিবারগুলোতে তীব্র মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য হলুদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান: “আমরা দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে এই জায়গায় বসবাস করছি। হঠাৎ করে এলাকার কিছু ভূমিখেকো চক্র আমাদের বাড়ির সামনে জোরপূর্বক বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমাদের বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে মানবিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। দুই দিন ধরে ভাত না খেয়ে আছি। বনরুটি ও কলা খেয়ে পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল মাদ্রাসা যেতে পারছে না। এখন পর্যন্ত প্রশাসন আমাদের উদ্ধার করতে পারেনি।”
একই এলাকার অপর ভুক্তভোগী সুমা আক্তার জানান, “আমরা দুই দিন ধরে গৃহবন্দী আছি। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে না খেয়ে আছি, ঘর থেকে বের হতে পারছি না। নদীর পানি খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি।” তারা এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আশিক মিয়া ও আমির আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এলাকায় তাদের পাওয়া যায়নি এবং তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন জানান, “আমি এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আজ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছে। বিবাদীকে দ্রুত বেড়া তুলে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তারা নির্দেশ অমান্য করে বেড়া তুলে না নেয়, তবে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে বেড়া অপসারণ করব।
Helpline - +88 01719305766