৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ০৬:০৬
সুরমাভিউ:- হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) মাজারের ঐতিহ্য ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত এবং মাজার ভক্তদের তীব্র ক্ষোভের মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে তাকে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন আকস্মিকভাবে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারে গিয়ে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে। একই সঙ্গে মাজারের দানের ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগ’ সিলগালা করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার অজুহাতে সেখানে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপে মাজার ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
এই বিতর্কের রেশ না কাটতেই পরদিন শুক্রবার সিলেটের অপর ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ ও মাজার হযরত শাহপরাণ (র.) পরিদর্শন করেন ডিসি সারওয়ার আলম। সেখানেও তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং মাজারের ভেতরে মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন কঠোর নির্দেশনা দেন। মাজারগুলোর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এমন আকস্মিক হস্তক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার জন্ম দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার তাকে সিলেট থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এর আগে, সিলেটের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুটের ঘটনা দেশব্যাপী তুমুল আলোচিত হওয়ার পর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সারওয়ার আলম ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০৮ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। তবে দেশজুড়ে তিনি বিপুল পরিচিতি পান র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়।
র্যাবে থাকাকালীন ভেজালবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী অসংখ্য ঝটিকা অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হন তিনি। ২০১৯ সালে ঢাকার ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান, ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম ও ভুয়া করোনা টেস্টের বিরুদ্ধে অভিযান এবং একই বছর তৎকালীন সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের বাড়িতে অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। ওই অভিযানে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে দেড় বছরের সাজাও দিয়েছিলেন এই ম্যাজিস্ট্রেট।
র্যাবে প্রায় ছয় বছর আলোচিত দায়িত্ব পালনের পর ২০২০ সালের নভেম্বরে তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান এবং গত বছরের আগস্টে সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান। তবে মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অসন্তোষের জেরে ১০ মাসের মাথায় সিলেট ছাড়তে হচ্ছে এই আলোচিত কর্মকর্তাকে।
Helpline - +88 01719305766