দিরাইয়ে ফুটপাত আছে,আবার ফুটপাত নেই !

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১০ জুলা ২০২৫ ০২:০৭

দিরাইয়ে ফুটপাত আছে,আবার ফুটপাত নেই !

Manual3 Ad Code

হেলাল আহমেদ, দিরাই থেকে::

খোলামেলা ফুটপাত শহরের সৌন্দর্য বাড়ায়। চলাচল করতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন পথচারীরা। পথচারীদের নিরাপদে হাঁটা ও চলাচলের উপযুক্ত স্থান ও ফুটপাতের ফলে যানজট এবং দুর্ঘটনাও কমে। কিন্তু ফুটপাত কি আসলেই পথচারীদের কল্যানে আসছে? ফুটপাতের বর্তমান চিত্র হচ্ছে, ফুটপাত থাকলেও মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে, এটা চরম বিশৃঙ্খলা এবং সময়ের বিশাল অপচয়; যার ফলে মানুষের জন্য শহর, নগর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। ছোট ছোট দোকান, নির্মাণসামগ্রী, ব্যবসাসামগ্রী আর হকারদের ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পথচারীরা। সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপর বসে গেছে পণ্যের পসরা। অবৈধভাবে ফুটপাত দখলে থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। পথচারীদের নাগরিক অধিকার ফুটপাতে হাঁটাও কেড়ে নিয়েছেন অবৈধ দখলদাররা। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের বাধ্য হয়ে হাঁটতে হয় মূল সড়ক দিয়ে; যার ফলে অনেক সময় ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

Manual5 Ad Code

এব্যাপারে দিরাই পৌরসভার দায়িত্বে থাকা
দিরাই পৌর প্রশাসক অভিজিৎ সুত্রধরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে জানা যায় তিনি ছুটিতে আছেন। তাই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি,তবে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না। তবে স্থায়ী সমাধানের আলোচনা চলছে।

যদিও মানবিক দিক বিবেচনায় জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন এসব হকার। তবে পৌরসদরে প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিত বাড়তে থাকা এই হকারদের দৌরাত্ম্যে ফুটপাত ও সড়কগুলো দখল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষেরা।
ফুটপাত থাকবে হকারদের দখলে, পথচারী নামবেন রাস্তায়, এ-ই যেন শহরের নিয়ম হয়ে পড়ছে!

Manual6 Ad Code

ফুটপাত শুধু রাস্তা বা সড়কের সৌন্দর্যই বাড়ায় না। পথচারীদের নিরাপদে হাঁটা ও চলাচলের উপযুক্ত স্থান ফুটপাত। প্রশস্ত ফুটপাতের কারণে যানজট বা দুর্ঘটনাও কমে অনেক। ব্যস্ত নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে স্বল্প দূরত্বে হেঁটে চলারও কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই ফুটপাত কি আসলেই পথচারীদের জন্য? ফুটপাতের বর্তমান চিত্র হচ্ছে, ফুটপাত আছে আবার ফুটপাত নেই।

হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাকা দিয়েই দোকান বসাতে হয়। তবে কারা এই টাকা নিচ্ছে, সে বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এখানকার নিয়মিত পথচারী শাহজাহান বলেন, ‘প্রতিদিন এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করি। আমার মতো সব পথচারীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখন ফুটপাতের পাশাপাশি রাস্তাও দখল হয়ে গেছে।

Manual8 Ad Code

দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক সুরমাভিউ কে বলেন আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি,ফুটপাত ও সড়ক দখলে থাকায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি অপরাধ তৎপরতা বাড়ছে।তাই আমরা সবসময় ফুটপাত দখল মুক্ত রাখার চেষ্টা করি।

পৌর শহরের রাস্তা এবং ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রেখে পৌরবাসীর পথচলা নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব পৌরসভার। এ কাজে পৌরসভার সাফল্য তেমনভাবে চোখে পড়েনি। এখনও বেশিরভাগ ফুটপাত হকার ও দোকানিদের দখলে রয়েছে। যদিও মাঝে মাঝে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান চলে; তবে অভিযানের পর পুনরায় দখল হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ বিশেষকরে এখনও চোখে পড়ছে না।
ফুটপাত ও রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত রাখা পৌরসভার মূল কাজের মধ্যেই পড়ে।

স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কম পুঁজির কিছু মানুষ এ ফুটপাতের হাঁটার জায়গায় দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর এ অভিযোগ নতুন কিছু নয়।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের সম্পূর্ণ ফুটপাত বিভিন্ন হকারদের দখলে রয়েছে। আবার যাদের সড়কের পাশে স্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা ফুটপাত দিয়ে মানুষের হাঁটার জন্য তিল পরিমাণ জায়গা খালি রাখেনি। বিভিন্ন পণ্য দিয়ে ফুটপাত দখলে রেখেছেন তারা। রাস্তার দুই পাশে অবাধে বসা ভাসমান দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।
যে-যার মতো বিভিন্ন পণ্যের দোকানপাট বসিয়ে জনগণের চলাচলে সমস্যা তো করছেই তার সঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের হাত থাকায় সহজেই কেউ কিছু বলতে পারছে না।প্রশাসনের দায়ত্বশীল অনেকের আইন প্রয়োগে অনীহা ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে- এ অভিযোগও পুরানো। আবার অনেক স্থানে ফুটপাতে গাড়ি পার্কিং করেও চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অনেক স্থানে দেখা যায় সিএনজি কিংবা অটো স্ট্যান্ড। সেই সঙ্গে মেইন রোডে ট্রাফিক জ্যাম থাকলে অনেক মোটরবাইক চালক মোটরসাইকেলটি ফুটপাতে উঠিয়ে দিচ্ছেন নির্দ্বিধায়। এতে নিরাপদ ফুটপাতও অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। যেখানে নিরাপদে হাঁটার জন্য ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে, সেখানে ট্রাফিক নির্দেশনা না মেনে ফুটপাতকে ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত করছেন। তা ছাড়া স্কুলে যাওয়া ছোট ছোট শিশুর হাঁটাও ঝুঁকিপূর্ণ। যানজট থেকে রেহাই পেতে চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেও এ ফুটপাত বন্ধ করে রাখায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। পথচারীরা ফুটপাত সহজভাবে ব্যবহার করতে না পেরে অস্বস্তিতে পড়ছেন।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি।আর এটা পৌরসভার অধীনে।আমরা পৌরসভার সাথে মিলে দিরাই থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করি।
কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই দখলদাররা আবার ফিরে আসে। এটি একটি চক্রের মতো কাজ করছে। আমরা এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান বের করার চেষ্টা করছি, যাতে পৌরবাসী নির্বিঘ্নে যানজটমুক্ত চলাচল করতে পারে।

আবুল হাসনাত নামের এক পথচারী বলেন,দিরাই শহরটির পরিসর খুবই ছোট। শহরের এ ছোট গণ্ডির ভেতরে প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করেছে ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত দখল করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা পরিচালনা করায় সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে শহরের নান্দনিকতাও বিনষ্ট হচ্ছে। শহরের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে ও নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনতে ফুটপাট দখলমুক্ত করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী একটি নির্ধারিত নিয়মের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি।
স্

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ