অনিশ্চয়তায় পাঁচ সেতুর কাজ দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ পোয়াতে হচ্চে জগন্নাথপুরবাসী

প্রকাশিত:বুধবার, ২৯ জুলা ২০২৬ ১১:০৭

অনিশ্চয়তায় পাঁচ সেতুর কাজ দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ পোয়াতে হচ্চে জগন্নাথপুরবাসী

Manual4 Ad Code

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:-  সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

একদিকে কার্যাদেশ বাতিল, অন্যদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় সেতুগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা জনদুর্ভোগে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজের আওতায় উপজেলায় ৫টি সেতু অনুমোদিত হয়। এগুলো হলো–কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর সেতু, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সেতু, পাটলি ইউনিয়নের লাউতলা ও রসুলগঞ্জ সেতু এবং মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের সেতু।

Manual8 Ad Code

২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের এ কাজটি পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল। তবে গত ৩০ জুনের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় জুলাই মাসে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Manual4 Ad Code

যোগাযোগব্যবস্থার এই বেহাল দশা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে ভুক্তভোগীদের মাঝে। কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের সমাজকর্মী ফাহিম আহমেদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে আছেন। টেন্ডার হওয়ার পর আশায় ছিলেন কাজ শুরু হবে। কাজ তো হলোই না, উল্টো বাতিল হয়ে গেল। মনে হচ্ছে এই সমস্যা সমাধানের কেউ নেই।একই অসন্তোষ প্রকাশ করে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও গ্রামের সদস্য নুরুল হক বলেন, ঠিকাদারদের ঢিলেঢালা ভাব আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে নাগরিকদের জীবন আজ অতিষ্ঠ। ঘোষগাঁও সেতু ও শিবগঞ্জ সড়কের কাজ কবে হবে, তা কেউ বুঝতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয়রা সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

Manual8 Ad Code

পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, সেতুগুলো নির্মিত না হওয়ায় ইউনিয়নের একটি বড় অংশের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বার বার দেনদরবার করেও এলজিইডি থেকে শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলছে না।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগের পর থেকেই তারা বার বার যোগাযোগ করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো সাড়া দেয়নি। তাই নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। যে প্রকল্প থেকে সেতুগুলো অনুমোদন পেয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হচ্ছে। এই স্বল্প সময়ে এ প্রকল্পের অধীনে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। তাই নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরের মাধ্যমে সেতুর কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ