হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করল ইরান, জাহাজ চলাচলে হামলার হুমকি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ ১১:০৩

হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করল ইরান, জাহাজ চলাচলে হামলার হুমকি

Manual6 Ad Code

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে এই সমুদ্রপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

সোমবার (২ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আইআরজিসির একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার বলেছেন, হরমুজ প্রণালী এখন বন্ধ এবং ইরান এটি পার করার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে।

Manual7 Ad Code

আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “প্রণালীটি (হরমুজ) বন্ধ করা হয়েছে। যদি কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর বীরেরা সেই সব জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে।”

Manual1 Ad Code

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন বলছে, এই পদক্ষেপ যদি কার্যকর করা হয়, তাহলে তা বিশ্বব্যাপী তেলের রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির করে দেবে।

বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর ইরান এই সিদ্ধান্ত নিল।

Manual5 Ad Code

বিশ্বের মোট ব্যবসা হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। বিশ্বের প্রতিদিনের তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ- অর্থাৎ প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।

বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নিউবার্গার বারম্যান-এর সিনিয়র পোর্টফোলিও ম্যানেজার হাকান কায়া বলেন, “এখানে যা বাজি ধরা হয়েছে তার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না।”

তার মতে, এক বা দুই সপ্তাহ আংশিক ধীরগতি হলে তেল কোম্পানিগুলো তা সামলে নিতে পারবে। কিন্তু এক মাস বা তার বেশি সময় পূর্ণ বা প্রায় পূর্ণ বন্ধ থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম (যা সোমবার ৭০ ডলারের আশেপাশে ছিল) তিন অংকে (১০০ ডলারের উপরে) পৌঁছে যাবে। এছাড়া ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২ সালের সংকটের মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Manual2 Ad Code

যদিও সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু পাইপলাইন রয়েছে যা এই পথ এড়িয়ে তেল পাঠাতে পারে, কিন্তু মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, “এই অঞ্চল থেকে বের হওয়ার জন্য বেশিরভাগ জ্বালানি পণ্যের কোনো বিকল্প পথ নেই।”

ওমান জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারও এই এলাকায় বেশ কিছু জাহাজে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।

এই প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ