কে হচ্ছেন নগরপিতা !

প্রকাশিত:শুক্রবার, ২০ ফেব্রু ২০২৬ ০৯:০২

কে হচ্ছেন নগরপিতা !

Manual4 Ad Code

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই সিলেট মহানগরের রাজনীতিতে নতুন করে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। কে হচ্ছেন নগরপিতা, আর কার মাথায় উঠছে আগামী দিনের জয়ের মুকুট—এ নিয়ে নগরীর মোড়ে মোড়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীরা।

Manual6 Ad Code

দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতার নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেশ জোরেসোরে আলোচিত হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

সিলেট বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, বর্তমান সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি তারা ওয়ার্ডভিত্তিক সভা-সমাবেশ ও সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিফতাহ্ সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ২০১৮ ও সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চাইলেও দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট জামান ২০১৪ সালে সিসিক নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন দলীয় প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। দলের প্রতি এমন ত্যাগ ও আনুগত্য তাকে মনোনয়নের দৌড়ে বিশেষ অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।

Manual7 Ad Code

অন্যদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা মাওলানা লোকমান আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো এবং তৃণমূল ও শ্রমিক মহলে বিশেষ প্রভাব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং নগরীর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নগরীর প্রধান সমস্যা ‘যানজট’ নিরসন নিয়ে তারা নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। এছাড়া দোয়া মাহফিল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রতীক কার ভাগ্যে জুটবে তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত, স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর। সিলেটবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত রূপ দেখার জন্য।

Manual3 Ad Code

সময়ই বলে দেবে, কার হাত ধরে আসবে সিলেটের আগামীর উন্নয়ন আর কে বসবেন নগর ভবনের প্রভাবশালী ওই চেয়ারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ