১১ দলীয় জোটের কোন দল কত আসনে লড়বে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৫ জানু ২০২৬ ০৯:০১

১১ দলীয় জোটের কোন দল কত আসনে লড়বে

Manual3 Ad Code

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে জানান জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, “আসন সমঝোতায় জামায়াত ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি ও নেজামে ইসলাম ২টি আসনে নির্বাচন করবে।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনের আসনের বিষয়টি এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানান জামায়াতের নায়েবে আমির।

এছাড়া ইসলামি আন্দোলনের জন্য ৪৫টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীবসহ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেলে ১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়া বাকি ১০টি দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন বক্তারা
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ১১টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজকে আসন ঘোষণা দেওয়া হবে। ওয়ান বক্স নীতির আলোকে যাকে যে আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে আসনে সব দলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। এ সম্মেলন থেকে জাতিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজাদীর পক্ষে থাকা, সংস্কারের পক্ষে থাকা দলগুলোর একত্রিত হয়েছি। এটি এক দিকে রাজনৈতিক সমঝোতা, এটা সব ঐতিহাসিক লড়াইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে। আজকের পর থেকে কেউ আর কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন,  “আওয়ামী লীগের শাসন দেখেছেন, বিএনপির শাসন দেখেছেন। এখন সময় ন্যায়ের শাসন দেখব। দিল্লির শাসন থেকে আমরা মুক্তি চাই। এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধারা একত্রিত হয়েছি। আর কোথায়ও এমনটা নাই। আমরা জনগণের সেবা করার জন্য এখানে এসেছি। এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। এটা নিশ্চিত করেন। নাহলে আগের সবার মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

Manual8 Ad Code

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতি যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা করছে, সেই মুক্তির জন্য আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। খুন, দুর্নীতির রাজনীতি দেখতে চাই না। তরুণদের বাংলাদেশ দেখতে চাই। জুলাই বিপ্লবকে যারা ধারণ করে তারা সবাই একত্রিত হয়েছি।”

জামায়াত আমির বলেন, “অতীতের মতো কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং বরদাশত করা হবে। যে যুবকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করব। আমরা যুবকদের সাথে থাকব। সাতচল্লিশ, একাত্তর, চববিশে যারা জাতির জন্য জীবন দিয়েছে তাদের সবাইকে স্মরণ করেছি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে তাদের ঋণ পরিশোধ করতে চাই।”

Manual6 Ad Code

ডা. শফিকুর রহমান বলেন,“শরীফ ওসমান বিন হাদীর কথা মনে পড়ছে। তার হত্যার বিচার চাই। তার বিচার যদি জনগণ দেখতে না পায় তাহলে বিপ্লবী তৈরি হবে না।”

তিনি বলেন, “যেসব আসনে একমত হয়েছি, সেসব আসনে যাদের প্রার্থী করা হচ্ছে তারা ১১ দলের প্রার্থী। তাদের জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ