১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:সোমবার, ২৮ জুলা ২০২৫ ০৭:০৭
(ঘ) শ্রম আদালতের সকল মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং শ্রমিক কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বিনা খরচে পরিচালনার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
(ঙ) সকল শ্রমঘন অঞ্চলে প্রয়োজনীয় শ্রমআদালত প্রতিষ্ঠাসহ শ্রম আপিল আদালত স্থাপন করতে হবে।
(চ) নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানের আইন কার্যকরীকরাসহ শ্রমআইন যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ১ মে মজুরিসহ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে বাস্তবায়ন করতে হবে।
(ছ) সব ধরনের অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের ৯০ দিনের মধ্যে স্থায়ী করতে হবে। স্থায়ী পদে আউটসোর্সিং বন্ধ করে শূন্য পদে শিক্ষানবীশ শ্রমিককে নিয়োগ দিতে হবে।
(জ) সড়ক পরিবহণ আইন ও বিধিমালার শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী ধারা ও বিধি বাতিল করতে হবে।
(ঝ) সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীগণকে শ্রম আদালতে মামলা করার অধিকার দিতে হবে।
(ঞ) পল্লী বিদ্যুৎ, ই-কমার্স, রাইড শেয়ারিং, গৃহশ্রমিক, খনি শ্রমিকসহ সকল শ্রেণির শ্রমিকদের শ্রমআইনের আওতায় আনতে হবে।
(ট) আউটসোর্সিংসহ কন্ট্রাক প্রথা বিলোপ করতে হবে। নিয়োগকৃত আউটসোর্সিং কর্মীদের স্থায়ী করতে হবে।
৩। চাকরির নিরাপত্তা ও হয়রানীমূলক বদলী বন্ধ এবং ট্রেড ইউনিয়ন বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করণ:
(ক) হয়রানীমূলক বদলি বন্ধ করতে হবে এবং পদাবনতি, ছাঁটাই, ডিসমিস ও টার্মিনেশনে চাকরিচ্যুতি বন্ধ করতে হবে।
(খ) আধুনিকীকরণের প্রয়োজনে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির পূর্ণ নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
(গ) সড়ক-মহাসড়কে চালক, যাত্রী, পণ্য ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিবহন সেক্টরে সকল ধরণের চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে।
(ঘ) শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া, শিল্পাঞ্চলে সভা-সমাবেশ ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম পরিচালনার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
(ঙ) শ্রমিকনেতাদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
৪। বাসস্থান, শিক্ষা ও যাতায়াত:
(ক) শিল্প এলাকা ভিত্তিক উপযুক্ত নিরাপত্তাসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য পরিবার নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বসবাসের উপযোগী বাসস্থান নির্মাণ করতে হবে।
(খ) চা শ্রমিকদের চাকরি শেষে বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করার আইন বাতিল করে তাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
(গ) শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে।
(ঙ) শ্রমিক-কর্মচারীদের সাংস্কৃতিক মান বিকাশের জন্য লাইব্রেরি, পড়াশোনা, খেলাধুলা, শরীরচর্চাসহ সুস্থ সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
(চ) গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের তাদের কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৫। পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত:
(ক) সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকার্ড প্রদানসহ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান ও শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় হাসপাতাল তৈরী করতে হবে।
(খ) কর্মরত শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠানের খরচে বছরে অন্তত দুই বার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
(গ) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও পেশাগত রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাসহ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
(ঘ) চাকরির সময়কাল নির্বিশেষে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
(ঙ) সকল কর্মক্ষেত্রে সুপেয় পানিসহ খাবার ক্যান্টিন, টয়লেট ও বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা করতে হবে।
(চ) ট্যানারী ও কেমিক্যালসহ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে পরিবেশ দূষণ মুক্ত করতে হবে।
(ছ) কর্মক্ষেত্র ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বসবাসের এলাকায় স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
(জ) কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নির্গমন ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। নারী ও শিশু শ্রম সংক্রান্ত:
(ক) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রমিকদের জন্য চাকুরির ক্ষেত্রে সমঅধিকার ও সমকাজে সমমজুরিসহ সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।
(খ) গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রসূতিকালীন ৬ মাসের ছুটি ও ভাতা প্রদানসহ শিশু ও মায়ের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
(গ) স্ত্রী ও সন্তানের পাশে থাকার জন্য প্রত্যেক শ্রমিককে মজুরিসহ অন্তত ১ (এক) মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করতে হবে।
(ঘ) নারী শ্রমিকদের মান-মর্যাদাহানি, ভয়-ভীতি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(ঙ) যে কোন ধরণের সংহিসতা ও হয়রানি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
(চ) শিশু শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে গরীব, দু:স্থ ও অসহায় পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৭। আইন, সম্পাদিত চুক্তি ও ঘোষিত ওয়াদা বাস্তবায়ন:
শ্রমআইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা এবং সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া সরকার/সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে শ্রম ও শিল্প সম্পর্কিত সকল চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। নিম্নতম মজুরি ও চুক্তি যে সকল মালিক বাস্তবায়ন করবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জরিমানা আদায় ও লাইসেন্স বাতিলের বিধান করতে হবে।
৮। শিল্প বিকাশ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন:
জাতীয় শিল্পের বিকাশের পথে বাধা জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করে জাতীয় স্বার্থে শিল্পের বিকাশ এবং শ্রমিক কর্মচারীসহ জনগণের আর্থসামাজিক জীবনমান ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে-
(ক) ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরিত সকল শিল্প-কারখানা সরকারি ব্যবস্থাধীনে চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
(খ) রাষ্ট্রায়াত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে বন্ধ ও রুগ্ন কলকারখানা প্রতিষ্ঠানসমূহ চালু করার জন্য দ্রæত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
(গ) পাট ও পাটজাত দ্রব্যের উৎপাদন ও রপ্তানী বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।
(ঘ) চিনি শিল্প ধ্বংসের সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বন্ধ করে চিনিকলসমূহের নিয়মিত উৎপাদন নিশ্চিত ও আখের ন্যায্য মূল্য প্রদান করতে হবে।
(ঙ) অনুৎপাদনশীল ও বিলাস দ্রব্যের আমদানী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ও বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।
(চ) জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্প বিকাশের স্বার্থে কৃষি উৎপাদনের উপকরণের দাম কমানো এবং উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
(ছ) অসংগঠিত খাতসহ সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে।
(জ) বিজ্ঞান প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি ও চাকরি অব্যাহত রাখার স্বার্থে সকল স্তরের শ্রমিকদের সমসাময়িক কাজের উপযোগী করে তুলতে রি-ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৯। শ্রমিক উচ্ছেদ বন্ধ করা:
(ক) সরকারি উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযানের নামে হকার ও দিনমজুরদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
(খ) ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক উচ্ছেদ করা যাবে না। রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য সড়কে আলাদা সার্ভিস লেন চালু করতে হবে।
১০। প্রবাসী শ্রমিক:
(ক) বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরসহ সকল ক্ষেত্রে হয়রানী বন্ধ এবং দেশে ফেরত আসার পরে তাদের কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
(খ) রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শ্রমিক প্রেরণের জন্য কার্যকর ও অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ প্রবাসী শ্রমিকদের প্রেরিত অর্থের সাথে ১০% বোনাস প্রদান করতে হবে।
(গ) প্রবাসী শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধ এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
(ঘ) বিদেশে অবস্থানরত দূতাবাসগুলোকে গতিশীল ও শক্তিশালীকরণসহ দুতাবাসগুলোতে শ্রমিক বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
(ঙ) ইউএন চার্টার অনুযায়ী প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রচলিত শ্রমআইনের সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে।
Helpline - +88 01719305766