১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:রবিবার, ১৪ মে ২০২৩ ০৮:০৫
নিষেধাজ্ঞা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশ কোনো পণ্য কিনবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখন একটা প্রবণতা হচ্ছে- নিষেধাজ্ঞা দেয়ার। এটি দেয়া হচ্ছে তাদের ওপর, যাদের দিয়ে সন্ত্রাস দমন করি। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা নিষেধাজ্ঞা দেবে তাদের থেকে আমরা কিছুই কিনবো না।
গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ৬০তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঘূর্ণিঝড় মোখা নিয়ে সরকারের সব প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কার কী লাভ হয় জানি না। সারা পৃথিবীর সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী। আমাদের কিছু পদক্ষেপের ফলে মানুষের ওই কষ্টটা হয়নি। আমি কয়েকটা দেশ ঘুরে এলাম, লন্ডনে ৩টার বেশি টমেটো কিনতে দেবে না, এক লিটারের বেশি তেল কিনতে দেবে না, এক প্যাকেট ডিম, খুব বেশি হলে ৬টা, তার বেশি কেউ কিনতে পারবে না। বাংলাদেশে সেই দুরবস্থা কিন্তু আসেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের একটু কষ্ট হচ্ছে। যার কারণে রোজার সময় সকলকে বলে দিয়েছি, ইফতার পার্টি বন্ধ করে মানুষকে খাবার দিতে হবে, ইফতার দিতে হবে।
এটা করেছে আমাদের দলের লোকেরা, তারা সক্রিয় ছিল। আমরা উচ্চমূল্যে সবকিছু কিনে অল্প টাকায় ক্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কোটি মানুষকে টিসিবি’র কার্ড করে দিয়েছি। চাল, ডাল, তেল যেন কম দামে কিনতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বলে গেছেন কৃষিযান্ত্রিকীকরণের কথা। আমরা ধীরে ধীরে তা করছি। হাওর অঞ্চলে ৭০ ভাগ ভর্তুকি দিচ্ছি। অন্যান্য অঞ্চলে ৫০ ভাগ। এটাতে অনেক উপকার হয়। আমাদের কৃষি যন্ত্রপাতিগুলো যেন স্বল্পমূল্যে কৃষক কিনতে পারে, সেটার জন্য আপনাদের চিন্তা করতে হবে। আমি হয়তো ভর্তুকি দিয়ে যাবো, সবাই তো সব সময় দেবে না। সেটাও মাথায় রাখতে হবে। সেইভাবে আপনাদের আরও গবেষণা দরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কার কী লাভ হয় জানি না। সারা পৃথিবীর সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী। আমাদের কিছু পদক্ষেপের ফলে মানুষের ওই কষ্টটা হয়নি। আমি কয়েকটা দেশ ঘুরে এলাম, লন্ডনে ৩টার বেশি টমেটো কিনতে দেবে না, এক লিটারের বেশি তেল কিনতে দেবে না, এক প্যাকেট ডিম, খুব বেশি হলে ৬টা, তার বেশি কেউ কিনতে পারবে না। বাংলাদেশে সেই দুরবস্থা কিন্তু আসেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আর কী করবো! বাবা-মা-ভাইবোন সবাইকে মেরে ফেলেছে। আমার তো হারানোর কিছু নেই। আমার দেশটিকে আমি এগিয়ে নিতে চাই। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় বিশ্বব্যাংক তার বরাদ্দ প্রত্যাহার করলেও একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই প্রতিষ্ঠানটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, যেকোনো দেশ এসে বিশাল অংকের টাকা দিয়ে কোনো প্রকল্প করতে বললে আমি কিন্তু সেই প্রকল্প গ্রহণ করি না, এটা আপনাদের আমি জানিয়ে দিচ্ছি। সেটা আমি করবোও না। কারণ, আমাদের দেশের জন্য যেটা প্রযোজ্য আমরা সেটাই করবো। এক সময় মিলিটারি শাসকদের সময় প্রচলিত ছিল যে, নিজের দেশের বড় অংকের টাকা দিয়ে প্রজেক্ট বানিয়ে সেই টাকা পরের কাছে তুলে দিয়ে তাদের কাছ থেকে কমিশন খাওয়া। আমার দেশের টাকা আমি তুলে দেবো আরেকজনের হাতে? তার কাছ থেকে কমিশন খাবো, ঘুষ খাবো- এই ধরনের মানসিকতা কেন থাকবে! এটা আত্মহননের শামিল। বরং, একটা টাকা বাঁচাতে পারি কিনা, সে চেষ্টাই করতে হবে।
এ সময় ঘূর্ণিঝড় মোখা নিয়ে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রেখেছি ও ঝড়টি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ঘূর্ণিঝড়ের সময় পানি জমে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সেই সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। এই পদক্ষেপ (গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্ধ) সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।
প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে চাই। উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি আপনাদের হাতে, এটা মনে রাখতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন স্বাধীনতার দশ বছরের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতো। শূন্য হতে যাত্রা শুরু করে মাত্র তিন বছর সাত মাস তিনদিন তিনি সরকারে ছিলেন। একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নত করা, একটি সংবিধান উপহার দেয়া, রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ আবার পুনর্গঠন, পুনর্বাসন করা, দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে জাতিকে স্বল্পোন্নতদেশের স্বীকৃতি এনে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।
আইইবি’র সভাপতি প্রকৌশলী মো. নজরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন (শিবলু)।
অনুষ্ঠানে আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোল্লা মো. আব্দুল হোসেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনারারি সেক্রেটারি প্রকৌশলী কাজী খাইরুল বাশার অনুষ্ঠানে যোগদানকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্তরের প্রকৌশলী, কেন্দ্র, উপকেন্দ্র, প্রকৌশল বিভাগ ও এএমআরই বিভাগের স্নাতকদের হাতে পুরস্কার (স্বর্ণপদক) ও সনদপত্র তুলে দেন।
Helpline - +88 01719305766