রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

প্রকাশিত:রবিবার, ১১ অক্টো ২০২৬ ০৯:১০

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

Manual4 Ad Code

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এই তথ্য জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সম্প্রতি লড়াই তীব্র আকার ধারণ করায় যুদ্ধের পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে।

Manual5 Ad Code

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও দুজন বাংলাদেশি, একজন ফিলিস্তিনি, একজন মার্কিন, একজন মিশরীয়, একজন জর্ডানিয়ান, একজন সিরীয় এবং একজন সুদানি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

এদিকে হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং বিমান চালকদের জন্য মধ্যরাত পর্যন্ত জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে। বিমানবন্দর চত্বর অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং সমস্ত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত ৭ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের এটি তৃতীয় হামলা। জিএসিএ-এর তথ্যমতে, এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুথি হামলায় একজন পাইলটসহ অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং অনেক ফ্লাইট অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরটি এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলের এই হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা তারা খতিয়ে দেখছেন।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণার এক সপ্তাহ পর থেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার এই তীব্রতা লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী (ইন্টারসেপ্টর) অস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে জরুরি বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে।

Manual8 Ad Code

এর আগে শনিবার হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল হুথিরা।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, সিবিএস নিউজ

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ