ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’-এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৬ অক্টো ২০২৬ ০৯:১০

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’-এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

Manual7 Ad Code

সুরমাভিউ:-  যুক্তরাজ্যে (ইউকে)’র ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে   সিলেট জিন্দা বাজার কাকলী শপিং মল, লিফট–৫ এর বাম পাশের কর্নারে ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সুবিচার ও পাওনা টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সূত্রে তিনি ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী ১। মোঃ মুক্তার হোসাইন, পিতা- মৃত আমরু মিয়া, সাং- ওলংকারী, বিশ্বনাথ, সিলেট। মোবাইল নং- ০১৬২৪৩১৭৭৪৭/০১৭৯৯০১৯৫২৯ ও ২। ইমন আহমদ, পিতা- আব্দুল জলিল, মোবাইল ০১৩০৭-৬৩৯২২১, সাং- ইসকন্দর আলী ভিলা, নাজিরগাঁও, বাহাপুর, ইউ/পি- লালাবাজার, থানাঃ দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট। মোবাইল নং- ০১৭৭৭-১৫৪১৬২/-৪৪৭৪০৫১৫৬০০৭/ ০১৮৪৪২৯৫২৮৫/ ০১৭৪৬৪৬২৪৯১।

১নং বিবাদী ও ২নং বিবাদী ইমন আহমদের সাথে যোগাযোগ করেন। গত ০৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অফিসে আলোচনার পর বিবাদীরা জানান যে, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য মোট ১৭,৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা) খরচ হবে।

Manual5 Ad Code

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রসেসিং ফি হিসেবে একই দিনে ১ (এক) লক্ষ টাকার চেক (নং-বিএস২৫-১২৮৭৭১২) প্রদান করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল- কোনো কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বা বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রদত্ত সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।

Manual7 Ad Code

পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিবাদীগণ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জানান যে, তাঁর ভিসার ‘কস’ (ঈঙঝ) চলে এসেছে এবং দ্রুত অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিবাদীদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মাধ্যমে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

টাকা হস্তান্তরের বিবরণ : ১. ২০/১১/২০২৪: বাদীর পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ২. ২০/১১/২০২৪: (পরিবারের সদস্যের হিসাব নম্বর হতে) পূবালী ব্যাংক (শাহজালাল উপশহর শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৪ লক্ষ টাকা। ৩. ২৫/১১/২০২৪: (পরিবারের সদস্যের হিসাব নম্বর হতে) পূবালী ব্যাংক (শাহগলি বাজার শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৫ লক্ষ টাকা। ৪. ২৬/১১/২০২৪: ((পরিবারের সদস্যের হিসাব নম্বর হইতে বিয়ানীবাজার শাখা) থেকে ২নং বিবাদী ইমন আহমদের ডাচ-বাংলা ব্যাংক (উপশহর শাখা) হিসাবে ১০ লক্ষ টাকা। ৫. ০৯/১২/২০২৪: (বিবাদীর নিজ হিসাব নম্বর হইতে)পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। ৬. ০৯/১২/২০২৪: ক্যাশ ডিপোজিটের মাধ্যমে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে আরও ৬০ হাজার ১২০ টাকা।

পরবর্তীতে গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাদীর ভিসা রিফিউজ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে।

Manual7 Ad Code

উল্লেখ্য যে, বিবাদী ইমন আহমেদ মোক্তার হোসেনের আপন ভাগনা (ভগ্নীর ছেলে) সর্বশেষে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২নং বিবাদীর পিতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার কোনো দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানান।

একই দিনে হোয়াটসঅ্যাপে ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে স্পষ্টভাবে মানা করে দেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে অজ্ঞাতনামা লোকজন দিয়ে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী বাদী জানান, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আমার সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি আর্থিক পারিবারিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

Manual1 Ad Code

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।