১০ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় স্কাউট ভবনে জালালাবাদ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ কামাল আহমদ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শেদ আহমদ মুন্না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আশ্রাফুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্নেল এম আতাউর রহমান পীর এবং সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও নজরুল গবেষক মামুনুর রশীদ।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। তিনি ছিলেন কবি, গীতিকার, সুরকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। তাঁর লেখনীতে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, শোষিত মানুষের মুক্তি, সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়েছে। নজরুলের সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, অধ্যাপক আসআদুল্লাহ, কবি সুফি চৌধুরী, নাগরি গবেষক মফিক মাহমুদ, অধ্যাপক মুসুম বিল্লাহ, নাট্যকার খালেদ চৌধুরী, এমএ রহিম নোমানী, আব্দুল বাসিত চৌধুরী, আব্দুস সালাম, বীতি চৌধুরী, মোশতাক আহমদ মম, রাসেদা আক্তার, শিক্ষাবিদ ফয়জুর রহমান, খায়রুল আমীন ও মেরাজ চৌধুরীসহ স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
আলোচনা সভায় নজরুলের সাহিত্যকর্ম, সংগীত, কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতির আবহ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন প্রতিভার অধিকারী কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকেরা বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা বিস্তারের মাধ্যমে মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করাই তাঁদের লক্ষ্য। নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।