চামড়া শিল্প নিয়ে সরকারের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন : সিলেট বিভাগীয় কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ

প্রকাশিত:শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ১০:০৫

চামড়া শিল্প নিয়ে সরকারের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন : সিলেট বিভাগীয় কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ

Manual2 Ad Code

সুরমাভিউ:-  সিলেট বিভাগীয় কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের এক জরুরি সভা আজ বেলা ১১ ঘটিকায় সিলেট মহানগরীর সোহানীঘাটে সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর কোরবানির পশুর চামড়া সংক্রান্ত বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দ উক্ত বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত মুমিন কখনো হতাশ হয় না। আমরা মাদরাসা কর্তৃপক্ষও হতাশ নই। তবে মন্ত্রী মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, চামড়া শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে; এজন্য চামড়া সংগ্রহের বিষয়ে আমরা যেন পুনর্বিবেচনা করি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কোরবানির চামড়া বিক্রি বা দান করা হলে তার একমাত্র হকদার গরিব জনগোষ্ঠী। গরিবদের এই হক এবং দেশীয় এই বাণিজ্যকে মূল্যায়ন ও টিকিয়ে রাখতে সরকারের কী উদ্যোগ রয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

Manual1 Ad Code

আমাদের উদ্বেগের জায়গা হলো, সরকার প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকার শুধু দাম নির্ধারণ এবং এতিমখানাগুলোতে লবণ বিতরণ করে কিছু পদক্ষেপ দেখালেও, প্রকৃতপক্ষে চামড়া সেই নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না এবং ব্যবসায়ীরা সেই দামে কিনছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি। শুধু দায় এড়াতে মূল্য বৃদ্ধি ও লবণ বিতরণের মাধ্যমে গরিব জনগণ ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দায়সারা আচরণ করে যাচ্ছে।

ঈদের দিনে গরিব ও অসহায় ছাত্রদের দ্বারা সংগৃহীত চামড়া আদৌ বিক্রি হচ্ছে কি না এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে ব্যবসায়ীরা তা ক্রয় করছে কি না—এ বিষয়ে সরকারের কোনো কার্যকর মনিটরিং নেই। এমনকি চামড়া সংগ্রহের পর বিক্রি না হওয়ায় এতিমখানা কর্তৃপক্ষ যে বিপদের মুখে পড়ে, তা দেখার জন্য সরকারি বা বেসরকারি কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকেও তখন খুজে পাওয়া যায় না। ট্যানারি নামক মাফিয়া চক্রকে সরকার কোনো জবাবদিহিতার আওতায় আনেন না। এর প্রকৃত কারণ কী, তা সরকারের কাছে আমরা জানতে চাই।

মন্ত্রী মহোদয় চামড়াকে খোদা-প্রদত্ত নিয়ামত বলে পরোক্ষভাবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে চামড়া সংগ্রহে আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন, যা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বলতে চাই, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ামত সংরক্ষণ, এর মূল্য রক্ষা এবং দেশীয় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজেদের কষ্ট সহ্য করে কাজ করেছি। কিন্তু সরকারের সঠিক উদ্যোগের অভাবে আমরা তা আর রক্ষা করতে পারছি না।

Manual5 Ad Code

কারণ, চামড়া সংগ্রহের জন্য মাদরাসা খোলা রাখা, বোর্ডিংয়ের খাবারের ব্যবস্থা সচল রাখা, ঈদের দিনের বিশেষ খাবারের আয়োজন, চামড়া পরিবহনের খরচসহ নানা ব্যয় মাদরাসার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করতে হয়। এসব ব্যয় পুরোপুরি লোকসানে পরিণত হয়। মাদরাসাভেদে এবং খাবারের মান অনুযায়ী একজন ছাত্রের দৈনিক খাদ্য ব্যয় ৭০ থেকে ১০০ টাকা। সে হিসেবে একটি মাদরাসায় যদি দুইশ’ জন ছাত্র থাকে, তাহলে ঈদের পূর্বে পাঁচ দিনে কারও প্রায় এক লাখ টাকা, কারও আরও বেশি ব্যয় হয়। অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও দেখা যায়, এর ফলে লোকসান ছাড়া আমাদের খাতায় আর কিছুই থাকে না।
আমরা উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকার গত বছর থেকে আমাদের মধ্যে লবণ বিতরণ করে লোক দেখানো দায়িত্ব পালন করছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে মাদরাসা, এতিমখানা ছাত্ররা চামড়ায় লবন লাগানো ও তা পারে না। শুধু মূল্য নির্ধারণ, লবণ বিতরণ এবং বিবৃতি দিয়েই সরকার মনে করছে এ শিল্পকে বাঁচানো যাবে। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, তাদের এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

Manual6 Ad Code

সংরক্ষর করা খুবিই দূরহ কাজ এবং অদক্ষ হওয়ার কারনে চামড়া অধিক হারে নষ্ঠ হয়ে থাকে। চামড়া শিল্পকে বাচাতে এবং গরীবের হক নিশ্চিত করতে হলে বাজারে ক্রেতার ও মূল্যের নিশ্চিয়তাসহ শক্ত/বাজার মনিঠরিং এর ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য আমরা তার দাবী জানাচ্ছি।

Manual2 Ad Code

সভায় উপস্থিত ছিলেন শামীমাবাদ মাদরাসার মুহতামিম সৈয়দ হাফিয শামীম আহমদ, কাজির বাজার মাদরাসার প্রতিনিধি মাও. শিব্বির আহমদ, দরগাহ মাদরাসার প্রতিনিধি মুফতি রশিদ আহমদ, দারুস সালাম মাদরাসার প্রতিনিধি মাও. নিয়ামত উল্লাহ, সোবহানীঘাট মাদরাসার মুহতামিম হাফিয মাও. আহমদ কবীর আমকুনী, মুক্তিরচক মাদরাসার মুহতামিম মাও. মুহিব্বুর রহমান, রামধা মাদরাসার মুহতামিম, মাও. ইউছুফ আহমদ খাদিমানী প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ