নিজস্ব প্রতিবেদক:- সরকারি ভবনের ছাদে ৫,০০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানে আইডিয়া, ক্লিন ও বিডাব্লিউজিইডি-এর যৌথ উদ্যোগে মৌলভীবাজারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের দাবীতে প্রচারাভিযান ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে ) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য দেশের সরকারি সকল অবকাঠামোতে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের দাবী ও এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো।
উক্ত প্রচারাভিযানে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের সকল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তিন মাসের মধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে। তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব এবং অর্থনৈতিকভাবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি সংকট, আমদানি নির্ভরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি ভবনসমূহের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুধু জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাবে না, বরং বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যাম্পেইনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় সোলার শিল্প, ইনস্টলেশন খাত, রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এতে করে একটি টেকসই সবুজ অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
আইডিয়া, ক্লিন ও বিডাব্লিউজিইডি সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসনসহ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদে দ্রুত রুফটপ সোলার স্থাপন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান এবং নেট-মিটারিং ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
আইডিয়ার প্রধান নির্বাহী নাজমুল হক বলেন, “এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে একটি আঞ্চলিক উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হবে।
এ সময় অঞ্জনা কর্মকার, জুলেখা আখতার মুক্তা, তানজিমা আক্তার তান্নি, এমডি মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।