শাহপরানে চুরি-ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে বাহুবল ইউনিক ক্লাবের আলোচনা সভা

প্রকাশিত:রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১০:০৫

শাহপরানে চুরি-ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে বাহুবল ইউনিক ক্লাবের আলোচনা সভা

Manual2 Ad Code

সুরমাভিউ:-  সিলেট সিটি কর্পোরেশন ৩৪নং ওয়ার্ড এর শাহপরান বাহুবল ১নং রোড ও গ্রীনল্যান্ড হাউজিং আবাসিক এলাকায় হঠাৎ বেড়েছে চোর-ডাকাতের উপদ্রব। আজ এ বাড়িতে তো কাল ওই বাড়িতে। এমন চোর-ডাকাত আতঙ্কে ঘুম হারাম হয়ে গেছে এলাকাবাসীর। এই চুরি, ডাকাতি, মাদক নির্মূল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে ৮ মে শুক্রবার বাদ এশা বাহুবল ইউনিক ক্লাবের উদ্যোগে এলাকার সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকার মুরুব্বি ও সাবেক ব্যাংকার আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে এবং বাহুবল ইউনিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ চৌধুরী (সানি)’র পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, সিসিক ৩৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ জয়নাল আবেদীন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর শাহপরাণ থানার আওতাধীন শাহপরাণ (রহঃ) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিঃ) ও সুরমা গেইট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস এম জামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও রেডিও এক্টিভিস্ট দিদারুল ইকবাল। আরও বক্তব্য রাখেন, বাহুবল ইউনিক ক্লাবের সভাপতি মোঃ মুহিবুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমদ সাত্তার সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান চৌধুরী, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)- শাহপরান ইউনিটের সহ-সভাপতি মোঃ আফজল আহমদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মখলিছুর রহমান, গ্রীনল্যান্ড হাউজিং এর হাওয়া ভবনের বাসিন্দা আজিজুর রহমান খোকন, কাজী জাকির, জুয়েল মিয়া, মোঃ রজব আলী, মেহেদী মামুন খান।

Manual2 Ad Code

এসময় উপস্থিত ছিলেন সুরমা গেইট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুল খালিক, বাহুবল ইউনিক ক্লাবের প্রচার সম্পাদক মির্জা অসিন, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা সুহেল আহমদ, রায়হান উদ্দিন, আব্দুর রহিম, আব্দুর রহমান, মোঃ রাজা মিয়া, মোঃ আব্দুল হান্নান মাস্টার, মোঃ ফয়জুল হক, মো. আব্দুল হক, রায়হান বিন রউফ, পিহাম, তোফাজ্জল হোসেন সাঈম, মো. সুমন আহমদ চৌধুরী, মারুফুজ্জামান অসিন, মিজান চৌধুরী, ইসলাম হুসেন সুহেল, মো. বাবুল হোসেন, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)- শাহপরান ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বারী, সাহাব উদ্দিন, মো. সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, হারুন রশিদ, সুবল নাথ, মজনুল হক, মো. অজুদ মিয়া, মোবারক আলী, ফখরুজ্জামান, মো. আতিকুর রহমান, আজমল হোসেন, গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী, জাকারিয়া আলম, আব্দুস সামাদ, মাসুক আহমদ, মো. আলাউদ্দিন (আলাই), নাছির উদ্দিন সাগর, সাইফ আহমদ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Manual4 Ad Code

শাহপরাণ (রহ:) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিঃ) ও সুরমা গেইট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস এম জামাল উদ্দিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই এলাকায় সংগঠিত যে কোন অপরাধ নির্মুল করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক এবং পেশাগত দায়িত্ব। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধ নির্মুলে সবাইকে সচেতন থেকে পুলিশকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। চুরি-ডাকাতি ঘটলে মামলা করতে হবে। তাহলেই আমরা অপরাধীর বিরুদ্ধে তড়িৎ এ্যাকশন নিতে পারবো। তিনি আরো বলেন, ইয়াবা, মাদক, চুরি-ডাকাতি, কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশ কোন ছাড় দিবেনা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আজ থেকে এই এলাকায় হয় অপরাধীরা থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে। পাশাপাশি এলাকার সকল নাগরিককে সচেতন থেকে পুলিশের সাথে ভ্রাতৃত্ব রেখে কাজ করার আহবান জানান তিনি। এখন থেকে এই এলাকায় রাত্রিকালীন পুলিশী পাহারাও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

Manual4 Ad Code

সিসিক ৩৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ জয়নাল আবেদীন তার বক্তব্যে বলেন, পারিবারিক অসচেতনতা এবং অভিভাবকদের অবহেলার কারণে অনেকের সন্তান মাদকাসক্ত, চুরি, ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। এদের অনেকই স্থানীয় আবার অনেকেই ভাড়াটিয়া বা বহিরাগত। তাই এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা এবং অপরাধ প্রবণতা বন্ধ করতে হলে এলাকার সকল বাড়ীওয়ালা ও তরুণ-যুবকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যারা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি ভাড়িওয়ালাদের নতুন ভাড়াটিয়া আসলে তাদের পরিবারের সকলের সঠিক তথ্য সংগ্রহে রাখতে বলেন। এছাড়া এলাকার প্রবেশ পথগুলোতে, বাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ অংশে সিসি ক্যামেরা সহ গেইট স্থাপনের অনুরোধ করেন।

Manual1 Ad Code

সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও রেডিও এক্টিভিস্ট দিদারুল ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, এলাকায় অপরাধ বন্ধ করতে হলে প্রথমেই সকল বাড়ীর মালিক একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সন্ধ্যার পর থেকে আবাসিক এলাকার প্রবেশ পথে, যেকোন বাড়ীর সীমানা ওয়ালে বসে কিংবা আবাসিক এলাকার ভেতরে বিভিন্ন গুচ্ছ রাস্তায় অন্ধকারে চিপায় অথবা তাদের বাড়ীর আশে-পাশে, অথবা পাশের পরিত্যক্ত জায়গায় কাউকে অকারণে আড্ডা দেওয়ার জন্য সুযোগ দিবে নাকি তা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে? এছাড়া দিনের বেলায় হকার বা ফেরিওয়ালা সেজে কেউ রেকি করছে কি না, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং এদের সংখ্যাও সীমিত করতে হবে। এই কাজটিই সঠিক ভাবে করতে পারলে অনেকাংশে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। বিজ্ঞপ্তি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ