২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:সোমবার, ১৯ আগ ২০২৪ ০৫:০৮
আন্দোলনে উত্তাল সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সিমেবি)। ভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গেল এক সাপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা।
মিছিলটি নগরের জিন্দাবাজার পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, সিমেবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম আহবায়ক মাইদুল ইসলাম চৌধুরী। সিমেবি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক মুহাজিরুল ইসলাম রাহাতের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, অফিসার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম আহবায়ক মো. গোলাম সারওয়ার,
সদস্যসচিব হুমায়ুন কবির জুয়েল, কর্মচারি পরিষদের সদস্যসচিব নাদীম সীমান্ত, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য
আব্দুস সামাদ চৌধুরী ও তিলেত্তমা দাশ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার চোখের ডাক্তার প্রফেসর ডা. এনায়েত হোসেন ও ট্রেজারার শাহ আলম ও রেজিস্ট্রার (এ্যাডহেক) আবুল কালাম মো. ফজলুর রহমান পদত্যাগ না করে উল্টো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। আমরা তাঁদের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করেন নি। তাই অনতিবিলম্বে আবারও আমরা তাঁদের পদত্যাগ দাবি করছি। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
বক্তারা আরোও বলেন, ভিসি এবং রেজিস্ট্রার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তারা।
এর আগে, গত সেমবার (১২ আগস্ট) ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় আজকে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে (এ্যাডহেক) ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার পদে আবুল কালাম মো. ফজলুর রহমান নিয়োগ পান। এরপর থেকেই নানা অনিয়ম শুরু করেন। তাঁর এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবুও ক্ষমতার দাপট ও ভিসির একচ্ছত্র মদদে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তাঁর ভয়ে তটস্থ ছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিনি তাঁর পছন্দের কয়েজন কর্মকর্তাকে দিয়ে আলাদা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। এই সিন্ডিকেট দিয়েই নানা অপকর্ম করাতেন তিনি। তাঁকে মদদ দিচ্ছেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. এনায়েত হোসেন। এজন্যই পদত্যাগ দাবি করছেন। তাঁরা এই নৈরাজ্যের অবসান চান।
Helpline - +88 01719305766