মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, জিডি করতে গিয়ে স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশিত:সোমবার, ০৬ জুলা ২০২৬ ১০:০৭

মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, জিডি করতে গিয়ে স্বামী গ্রেফতার

Manual1 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক:- মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীর লাশ মাটিচাপা দিয়ে ‘নিখোঁজ’ নাটক সাজাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতেই ধরা পড়েছেন স্বামী আলমগীর হোসেন। নিজের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ই হয়ে ওঠে তার গ্রেফতারের কারণ।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে আলমগীরের বাড়ির উঠান খুঁড়ে তার স্ত্রী জায়দা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী জাহেদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন রাখতে গভীর রাতে বসতবাড়ির উঠানের একপাশে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন তিনি।
ঘটনার কয়েকদিন পর সন্দেহ এড়াতে পরিকল্পিতভাবে নতুন নাটক সাজান আলমগীর। তিনি রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চান। একই সঙ্গে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিদেশে চলে গেছেন।
তবে জিডি করতে গিয়ে তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহে হয় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাজনগর থানা পুলিশ আলমগীরের বাড়ির উঠান খুঁড়ে জায়দা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ