২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:রবিবার, ১৮ আগ ২০২৪ ০৪:০৮
সিলেট অফিস।। ভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিমেবি) বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ।
১৮ আগষ্ট, রোববার, বেলা ১২টায় ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে, সিলেট নগরের চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রিয় শহিদ মিনারে সামনে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী কলেজ পরিদর্শক জনাব মাইদুল ইসলাম চৌধুরী, সেকশন অফিসার আশরাফুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রহমত আলী, কাজি মাসুদ এবং কর্মচারীদের মধ্যে আহসান উদ্দিন, মুহাজিরুল ইসলাম, নুরুল আমীন চৌধুরী, এনাম আহমদ, আব্দুস সামাদ চৌধুরী, তিলোত্তমা দাশ, তারেক হাসান ও মনি আক্তার বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার চোখের চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এনায়েত হোসেন মুকুল, ট্রেজারার শাহ আলম ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী রেজিস্ট্রার (এডহক) আবুল কালাম মো. ফজলুর রহমান বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করে, উল্টো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনতিবিলম্বে আবারও আমরা তাঁদের পদত্যাগ দাবি করছি।
অন্যথায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সিলেটবাসীকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক দুর্নীতিসহ নানা অনিয়ম, বৈষম্য, নৈরাজ্য, অদক্ষতা, স্বজনপ্রীতির কারণে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এর ফলে অধিভূক্ত কলেজসমূহের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহতের সম্পূর্ণ দায়ভার ভিসি এবং রেজিস্ট্রারকে নিতে হবে৷ বর্তমান অচলাবস্থার কারণে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত হুমকির সম্মুখীন। তাই নিজ স্বার্থে স্বৈরাচারী সরকারের দোসর ভিসি ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁরা উদাত্ত আহ্বান জানান।
এর আগে, ১২ আগস্ট, উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ। পালন করা হয় মানব বন্ধনসহ নানা কর্মসূচি। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় আজকে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে (এডহক) ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার পদে আবুল কালাম মো. ফজলুর রহমান নিয়োগ পান। এরপর থেকেই নানা অনিয়ম শুরু করেন। তাঁর এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবুও ক্ষমতার দাপট ও ভিসির একচ্ছত্র মদদে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তাঁর ভয়ে তটস্থ ছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিনি তাঁর পছন্দের কয়েজন কর্মকর্তাকে দিয়ে আলাদা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। এই সিন্ডিকেট দিয়েই নানা অপকর্ম করাতেন। তাঁকে মদদ দিতেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. এনায়েত হোসেন। এজন্যই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁরা এই নৈরাজ্যের অবসান চান।
Helpline - +88 01719305766