১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:সোমবার, ২৪ নভে ২০২৫ ১২:১১
মৌলভীবাজার ১ আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে পাল্টা পাল্টী উঠান বৈঠক ও সমাবেশ চলছে।
গতকাল ২৩ নভেম্বর শরিফুল হক সাজু’র মৌলভীবাজার ১ (বড়লেখা -জুড়ি ) আসনে বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা।
গত ৩ নভেম্বর মনোনয়নের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। ওই ঘোষণায় সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে ১৪টির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
এই ঘোষণার পরও কয়েকটি আসনে মাঠ ছাড়েননি দলের অনেকেই। তারা ধানের শীষ না পেলেও মাঠে সক্রিয় ভাবে জড়োসড়ো ভাবে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। সিলেট বিভাগের কয়েকটি আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার ১ আসনে তৃণমূলের দাবি প্রার্থী বদল-রিভিউর।
মৌলভীবাজার ( বড়লেখা – জুড়ি ) আসনে ২০১৮ সনের বিএনপির প্রার্থী কে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতারা ওই আসনে প্রার্থী রিভিউ করার দাবি করেছেন।
তাদের দাবি, ২০১৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রার্থী তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সাথে তেমন কোন যোগাযোগ রাখেন নি এবং ফ্যাসিস্ট বিরুদ্ধী আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের কোন খুঁজ খবর রাখেন নি । বর্তমান সময়ে ও উনার নেতাকর্মী সহ সাধারণ ভোটারদের সাথে উনার তেমন কোন যোগাযোগ নেই।
তৃণমূলের বড় একটি অংশ মনে করছে, ২০২৬সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়ে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উনি জামায়াতের প্রার্থীর কাছে তিনগুণ ভোটে পরাজিত হবেন।। নেতাকর্মীদের মতে এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে তিনি ভোটের রাজনীতিতে দুর্বল।
স্থানীয়রা জানায়, যিনি উপজেলা ও পৌর এলাকার বেশিরভাগ ভোটারদের সাথে সম্পৃক্ততা নেই তিনি জাতীয় নির্বাচনে কীভাবে জয়লাভ করবেন ?
তাছাড়া সম্প্রতি তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর ও নাসির উদ্দীন মিন্টু উনার সাথে থাকা অন্য প্রার্থী শরিফুল হক সাজু সাথে কোন যোগাযোগ করেন নি বরং শরিফুল হক সাজুকে দল থেকে বহিষ্কার করাতে বিএনপির বিভিন্ন মহলে নানান ভাবে যোগাযোগ করছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। উনার এই বিতর্কিত আচরণ নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে নিজ এলাকার কর্মীদের সঙ্গে মাঠে না নামিয়ে তিনি অন্য উপজেলা থেকে লোক এনে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। ফলে তৃণমূলের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও প্রকট হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করেন, মৌলভীবাজার ১ আসন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। জামায়াত এখানে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হলে এর মূল্য দলকে দিতে হতে পারে।
এদিকে রিভিউ দাবি জানানো শরিফুল হক সাজু ইতিমধ্যে উক্ত আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন ।
এই আসনে তৃণমূলে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ, ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে । পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল উদ্দিন প্রতিবেদককে মুঠফোনে জানান, মৌলভীবাজার ১ আসনে তৃনমূলে অন্ত্যান্ত জনপ্রিয় নেতা শরিফুল হক সাজু তিনি ইতিমধ্যে আমাদের অঞ্চলের সাধারণ ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছেন। বড়লেখা জুড়ির মানুষ আন্দোলন সংগ্রামে শরিফুল সাজুকে পাশে পেয়েছে তিনি আন্দোলনের মাঠ থেকে গ্রেফতার হওয়া প্রায় শ খানেক নেতাকর্মীকে কারাগারে দেখবাল করেছেন এবং জামিনে মুক্ত করার জন্য যা যা প্রয়োজন হয় তাই করেছেন। তা ছাড়াও আমাদের অঞ্চল টিতে প্রায় ১৭ টি চা বাগানের চা শ্রমিকদের কাছে অনেক জনপ্রিয় শরিফুল হক সাজু তিনি ইতিমধ্যে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাই এই আসনে রিভিউ এর মাধ্যমে জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীর বদলে জনপ্রিয় প্রার্থী কে মনোনয়ন দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।
এদিকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন বিরোধকে কেন্দ্র করে অনেক জায়গায় দলের ঐক্য নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এলাকায় প্রভাব আছে, মনোনয়নবঞ্চিত এমন অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে পারেন, এমন আশঙ্কাও আছে।
এমতাবস্থায় বিরোধ সামলাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উদ্যোগী হয়েছেন। দায়িত্বশীল নেতারা একে একে বিরোধপূর্ণ আসনের সব পক্ষকে ঢাকায় ডেকে কথা বলছেন। সমঝোতার চেষ্টা করছেন। কিছু কিছু আসনে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা আছে বলেও জানা গেছে।
Helpline - +88 01719305766