মোঃ তাজুদুর রহমান, মৌলভীবাজার:- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের কালিয়ার গাঁও গ্রামের টনু মিয়ার ছেলে ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সুরমান মিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী।
(৩১ আগস্ট) রবিবার মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় মামার বাড়ী রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হল রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি আতাউর রহমান, ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মীর শামীম আহমেদ, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উক্ত এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।
ভুক্তভোগী সুরমান মিয়া বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় ছোট-বড় ৩০টি হাওর রয়েছে। এরমধ্যে হাইল হাওর অন্যতম। প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্যে গড়ে ওঠা ১০ হাজার সেক্টর ভূমির হাইল হাওরে রয়েছে বিখ্যাত বাইক্কা বিলসহ ছোট বড় ১৩০ টি বিল, ১৩ টি নদী চার দিক থেকে হাওরে নেমে এসেছে ৩৫২ টি ছড়া।
মৌলভীবাজার শহরের পানি কোদালী ছড়ার মাধ্যমে হাইল হাওরে যায়। হাইল হাওরে মৌলভীবাজার জেলার কম-বেশী ১০-১৫ লাখ মানুষের মিঠাপানির যোগান দিতে পারে। রয়েছে জলজ উদ্ভিদসহ অপার প্রাকৃতিক সম্পদ। শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার পৌর শহরের অতিবৃষ্টির পানি ধারণ ও জেলার জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, তাপ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ তথা হাওরটি প্রকৃতির ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু দুঃভাগ্যের বিষয় হলো- প্রাণ-আর এফ এল হাওরর্টিকে ধ্বংস করে গভীর ফিশারী ও নানা জাতের শিল্পকারখানা গড়ে তোলার তৎপরতা চালিয়ে আসছে ২০২৩ সাল থেকে।
ভূমি আইন, পরিবেশ আইন-সহ দেশের প্রচলিত আরও আইনবিধি গঠন করে প্রাণ কোম্পানীর এই পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমে প্রতিবাদ করে আসছে। মৌলভীবাজার জেলা হাওর রক্ষা আন্দোলন সহ পরিবেশবাদী সংগঠন গুলো। হাইল হাওর রক্ষার আন্দোলনে আপনাদের লেখনীতে কোম্পানীর কত দ্বারা ক্ষীতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার গুলো স্বস্তির কিছুটা ভরসা পাচ্ছেন।
উল্লেখিত ক্ষতিগ্রস্তএলাকাবাসীর সাথে সহমত পোষন করে, আমিও হাওর আন্দোলনের ন্যায্য লড়াই সংগ্রামে যুক্ত হই। এতে কোম্পানির স্থানীয় দায়িত্ব প্রাপ্তরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৭ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরো বলেন, আমি স্থানীয়ভাবে একজন সক্রিয় বিএনপি’র কর্মী সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ২ বারের ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে ইউনিয়ন কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছি। এ সত্বেও ঢাকার গুলশান থানায় আমাকে আওয়ামীলীগ বানিয়ে গত ৫ আগস্ট ২৪ পরবর্তিতে একটি মামলার এজহারভুক্ত আসামী করা হয়। যাহার নং-২৮ তাং ২৫ এপ্রিল ২০২৫এবং আমি উল্লেখিত মামলার ৪৫নং এবং প্রধান আসামী স্বৈরাচারী প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ৯৪ জন মোট আসামি,আমার উপর এমন অভিযোগে আমি বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি। আরেকটি মামলা ঢাকার বাড্ডা থানা কোর্টে করা হয়েছে যাহার সি আর নং- ৩৪৯ মামলার তারিখ ২৯-০৫-২০২৫ ইং, আমার সম্পর্কে স্থানীয় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ অবগত রয়েছেন। আমি আপনাদের সহযোগিতায় উল্লিখিত মিথ্যা মামলাসহ প্রাণ কোম্পানীর সকল মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চাই এবং আমি আপনাদের মাধমে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই। এবং একই সাথে একরকম মিথ্যা বানোয়াট মামলায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মীর শামীম আহমেদ বলেন – সুরমান মিয়া বিএনপির একজন নির্যাতিত কর্মী বিগত ১৭ বছর তিনি আমাদের সাথে বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, আমরা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি অবিলম্বে সুরমানের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।