জগন্নাথপুরে সহকারী শিক্ষিকা মামলা তুলতে হুমকি

প্রকাশিত:বুধবার, ০২ অক্টো ২০২৪ ১১:১০

জগন্নাথপুরে সহকারী শিক্ষিকা মামলা তুলতে হুমকি

Manual1 Ad Code

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:-  সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষিকা কে মারপিট ও বাচ্চা নষ্ট করার অপরাধে নারী শিশু নির্যাতন আইনে মামলার প্রধান আসামী কে মামলার ১৭দিন পার হলেও এখনো কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বাদীর অভিযোগ, মামলার আসামি ধরতে পুলিশ কেন গড়িমসি করছে- তা আমাদের বোধগম্য না। পুলিশ এখনো আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করছে না। এছাড়া বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছে মামলার বাদী ও স্বজনরা। বাদীকে বিভিন্ন ভাবে মামলার তুলতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মামলার বাদি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

Manual7 Ad Code

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা কে বিয়ে করেন জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজারের, মৃত যোগেশ দাশের পুত্র দিপক দাশ। বিয়ের পর থেকে মেয়েকে নির্যাতন এবং যৌতুক দাবি করে আসছে সে। মেয়েটি নির্যাতন সহ্য করেও ছেলেটিকে দুই কিস্তিতে ছয় লক্ষ টাকা যৌতুক দেন। তারপরও নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি সহকারী শিক্ষিকা। নরপশু সহকারী শিক্ষক পেটে লাথি মেরে তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়। প্রতিনিয়ত সরকারি শিক্ষিকাকে মা মারপিট ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছে।
এ ঘটনায় ১৬/৫/২০২৪ ইং তারিখে জগন্নাথপুর থানায় যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন আসামিকে ধরতে পারেনি।

মামলার বাদী সহকারী শিক্ষিকা বলেন, ঘটনার ১৭ দিন হয়ে গেল। এখনো সব আসামিকে পুলিশ আটক করতে পারেনি। হয়তো কোন অদৃশ্য কারণে পুলিশ তাদের আটক করছে না। এছাড়া মামলার পর থেকে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। বিভিন্নভাবে আমাকে মামলা তোলার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি স্কুলে যেতে নিরাপত্তাই হীনতায় ভুগছি।।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আরেফিন বলেন, ‘আমরা আসামীকে ধরার জন্য বিভিন্নভাবে সোর্স লাগিয়েছি, কয়েকদিনের মধ্যেই আসামী কে ধরতে পারবো।’

জগন্নাথপুর থানার (ওসি) মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি , মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যহত রেখেছি। শিগগির তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত দিপক দাশ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলগঞ্জ গ্রামের মৃত যোগেশ দাশের ছেলে। তিনি কছুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত ৩/৫/২০২২ ইং ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে দিপক দাশের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মেঘারকান্দির গ্রামের হিরা, দাশের মেয়ের সাথে বিবাহ হয়। আসবাবপত্রসহ স্বর্ণালঙ্কার যৌতুক বিয়েতে প্রদান করা হয়। বিয়ের পর থেকে শিক্ষক দিপক দাশ প্রতিনিয়ত যৌতুকের টাকার জন্য মেয়েকে নির্যাতন করে আসছেন।
বিয়ের পর থেকেই দিপক দাশ নগদ ৬ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছেন। টাকার জন্য প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে নির্যাতিত শিক্ষিকার পরিবার মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তা করে দুই কিস্তিতে নগদ ছয় লক্ষ টাকা প্রদান করেন। টাকা দেওয়ার পরে কিছুদিন পর তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে সন্তান না নেওয়ার জন চাপ প্রয়োগ করে দিপক দাশ। কিছুদিন পর আবারো দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে তার স্ত্রীকে তিনি চাপ প্রয়োগ করেন। এর পাশাপাশি স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন।

Manual5 Ad Code

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত দিপক দাশ স্ত্রীকে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্ররোচনায় মারপিট শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মারেন। এতে তার স্ত্রীর প্রচন্ড ব্যাথা ও রক্তক্ষরণ হলে তাকে কোন চিকিৎসা প্রদান করেনি অভিযুক্ত দিপক দাশের পরিবার। নির্যাতনের শিকার তার স্ত্রীর স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত অবনতি হওয়ার ফলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জগন্নাথপুরে নিয়ে যায় অভিযুক্ত দিপক দাশ। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার ঐ শিক্ষিকার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে জানান।

Manual8 Ad Code

পরে স্ত্রী মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে ঘটনা জানানোর পর জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নেওয়া হয়। সহকারী শিক্ষিকা বলেন, ‘তিনি ( দিপক দাশ) ও তার মা সহ প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন। রান্নায় লবণ কম হলেও পরিবারের সকলের প্ররোচনায় তিনি আমাকে মারধর করেন।

Manual1 Ad Code

নির্যাতিতা মহিলা বলেন, ’ঘটনার দিন ২ লাখ টাকার জন্য চাপ দিলে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দিপক দাশ আমার গলা চেপে ধরেন, মুখে কাপড় বেঁধে মারপিট করেন। আমার শরীরে বিভিন্ন স্হানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ