মানিক পশারীর দাফনে বাধা নয়, ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে আপত্তি: মাসুদ সাঈদী

প্রকাশিত:Sunday, 25 Oct 2026 09:10

মানিক পশারীর দাফনে বাধা নয়, ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে আপত্তি: মাসুদ সাঈদী

Manual5 Ad Code

যুদ্ধাপরাধ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন কিংবা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।

Manual6 Ad Code

তবে একজন কথিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে আপত্তি ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে মাসুদ সাঈদী এসব কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার মরদেহ পিরোজপুরে আনা হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং গার্ড অব অনার প্রদানে আপত্তি জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে।’

তিনি আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও দলীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জনগণের ক্ষোভ সামাল দেয়া কঠিন ছিল।

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরার সময় মানিক পশারী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন। তার উদ্ধৃতি দিয়ে মাসুদ সাঈদী লেখেন, মানিক পশারী বলেছিলেন, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

Manual7 Ad Code

মাসুদ সাঈদীর অভিযোগ, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সরকারি ভাতা দেয়ার পেছনে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল এবং তাকে দেয়া রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা বন্ধের দাবিও জানান সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। এ ছাড়া এ কে এম এ আউয়ালের বিরুদ্ধেও তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

মাসুদ সাঈদীর মতে, এ ধরনের ঘটনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি অসম্মান এবং মহান স্বাধীনতার অবমাননা।

Manual3 Ad Code

তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, গেজেটভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এবং সরকারি ভাতা গ্রহণের বিষয়ে মাসুদ সাঈদীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া সেগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ