সুনামগঞ্জে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, ‘‎আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’

প্রকাশিত:Saturday, 24 Oct 2026 11:10

সুনামগঞ্জে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, ‘‎আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’

Manual8 Ad Code

‎সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ভূমি অফিসের ফেসবুক পেজ থেকে করা এসিল্যান্ডের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তোলপাড় সৃষ্টি ‎‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’—এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্টে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

‎শুক্রবার দিবাগত রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্ত ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ পেজ থেকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবেন’ লিখে একটি পোস্ট করেন। এর কয়েক মিনিট পর ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ লিখে আরেকটি পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যেই পোস্ট দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

Manual6 Ad Code

‎এ ঘটনার পরপরই জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক ‘ইউএনও জামালগঞ্জ’ পেজ থেকে পোস্ট করে জানান, এসিল্যান্ডের আইডি হ্যাক হয়েছে, কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।

 

Manual7 Ad Code

‎ইউএনওর এই পোস্টের কিছুক্ষণ পরই ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ পেজ থেকে আগের পোস্ট দুটি ডিলিট করা হয়।

Manual8 Ad Code

‎তবে পোস্ট ডিলিট করাকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, আইডি হ্যাক হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে কীভাবে পোস্ট ডিলিট হলো? আর আইডি হ্যাক হয়ে থাকলে এসিল্যান্ড নিজে কেন সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি এবং তার মোবাইল নাম্বার কেন বন্ধ রয়েছে?

Manual4 Ad Code

‎‎ইউএনও ও এসিল্যান্ডের এই পোস্টকে কেন্দ্র করে জামালগঞ্জে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়,শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটেস্থ মাউন্ট এডোরা হসপিটাল ও পরে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসিল্যান্ডকে ঢাকায় রেফার্ড করেন।‎

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সে তার স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল আমার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসেছিল। কেক কাটার পর থেকেই সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। সে আমার আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তুলে, তারপর বাচ্চাদেরও মারধর করেছে। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তাকে ডাক্তার প্রেসক্রাইব করা দুটি ঘুমের ইনজেকশন দিতে হয় কিন্তু এসব ওষুধ জামালগঞ্জের কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। তাছাড়া তার স্ত্রী গর্ভবতী হাওয়ায় আমাদের চিন্তা আরও বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, তখন তার বাসায় গিয়ে দেখি সে গ্লাস ভেঙেছে, অদ্ভুত আচরণ করছে। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের আরএমওকে ফোন করে বাসায় নিয়ে এসে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করি।

ইউএনও বলেন, আমি আজ সকালে তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি, তার বাবা আমাকে বলেছেন, কয়েক ঘণ্টা ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে। আমি অবাক হয়েছি এমন একজন মানুষ সিভিল সার্ভিসে কাজ করে যাচ্ছেন আমরা বুঝতে পারিনি। আমি তার আগের কর্মস্থলেও খোঁজ নিয়ে জেনেছি- তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। সে এমন পোস্ট কেন করল আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার মেয়ের জন্মদিনের কেক খেয়েছে, সবার সঙ্গে গল্প করেছে, তারপর হঠাৎ কি হয়ে গেল আমি বুঝলাম না। এখন আপাতত তাকে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। আমিও চাই সে সুস্থ হয়ে তার কর্মস্থলে ফিরে আসুক।

তিনি বলেন, আমার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে এসিল্যান্ড সস্ত্রীক আমার বাসায় আসেন। অনুষ্ঠান শেষে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি ফেসবুকে একটি বার্তা পোস্ট করেন। সাথে সাথে আমি জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করি। আমি সহ অফিসার ইনচার্জ ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে তার বাসায় যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠাই।

তিনি আরও বলেন, সিলেট থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসলে জানা যাবে কী উদ্দেশ্যে তিনি ফেসবুকে এই পোস্টটি করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ