শাল্লায় প্লাবনের রহস্যজনক মৃত্যুতে থানায় অভিযোগ দায়ের

প্রকাশিত:Saturday, 24 Oct 2026 11:10

শাল্লায় প্লাবনের রহস্যজনক মৃত্যুতে থানায় অভিযোগ দায়ের

Manual7 Ad Code

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় প্লাবন সরকার (২৪) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুতে তাঁর বড়ভাই প্রনয় সরকার বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে থানায় এ অভিযোগ করা হয়।

Manual8 Ad Code

অভিযোগে আসামী করা হয়- আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও হারুন মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলাম (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন।
গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত প্লাবন সরকার মামুদনগর গ্রামের প্রভাত চন্দ্র সরকারের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত প্লাবন সরকার দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী থানার কৃষ্ণপুর বাজারে দর্জির কাজ শিখে মামুদনগর বাজারে নিজেই একটি দর্জির দোকান চালু করেন। ঐ সময়ে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানও কৃষ্ণপুর বাজারে ভূষিমালের দোকানে কাজ করত। পরে হাবিবুরও মামুদনগর বাজারে নিজে ব্যবসা চালু করেন। আর সেই সময় কৃষ্ণপর বাজার থেকেই প্লাবন সরকার ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্ক অনৈতিক সম্পর্কে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমান কিছু ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে প্লাবনকে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল, শারীরিক ও সাইবার বুলিং করতে শুরু করেন।

Manual3 Ad Code

অভিযোগে আরো জানা যায়, হাবিবুর রহমান তার কাছে সংরক্ষিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দ্বারা সর্বদা প্লাবনকে ব্ল্যাকমেইল করায় সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। প্লাবনের উপার্জিত সব অর্থ হাবিবুর রহমানে পেছনে ব্যয় করে দিশেহারা হয়ে যান। এমনকি এক বছর পূর্বেও প্লাবন সরকার হাবিবুর রহমানের নানা অপরাধমূলক প্ররোচনার কারণে বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ঐ সময়ে সঠিক চিকিৎসায় প্লাবনকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও গত ২২ অক্টোবর বিকালে একই কারণে প্লাবন সরকারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে তার ফেসবুক আইডিতে হাবিবুর রহমান ও প্লাবন সরকারের যৌথ ছবি পোস্ট করেন। সেই পোস্টের ক্যাপশন “আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি” লিখে মারা যান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্লাবনের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পূর্বেই অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম মামুদনগর বাজারের পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকারকে মোটরসাইকেলে সঙ্গে নিয়ে প্লাবনের বাড়িতে আসেন। রাস্তায় মোটর বাইক থামিয়ে দৌড়ে এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন হাবিবুর ও মঈনুল। পরে হেঁটে আসতে থাকা পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকারকে চিৎকার করে ভিপি (রক্তচাপ মাপক যন্ত্র) আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রদীপ সরকার দ্রুত পাশেই নিজ বাড়ি গিয়ে ভিপি (রক্তচাপ মাপক যন্ত্র) নিয়ে এলে প্লাবন সরকারের শরীরে রেসপন্স নেই বলা মাত্রই অভিযুক্ত হাবিবুর ও মঈনুল প্লাবনের স্মার্টফোনটি (ধারণা করা হচ্ছে স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত ছিল) নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগে আরো জানা যায়, এই ঘটনার খবর পেয়ে শাল্লা থানার পুলিশ প্লাবন সরকারের মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করেন। পরে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্লাবন সরকারের ময়নাতদন্ত ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর নিহতের আপন বড়ভাই প্রনয় সরকার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এব্যাপারে অভিযোগের বাদী প্রনয় সরকার জানান, গতকাল রাতে আমি থানায় অভিযোগ করেছি।

Manual6 Ad Code

জানতে চাইলে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের আলোকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ