সিলেট মহানগরীর হিজড়া ও ভিক্ষুকদের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও জেলা সমাজসেবা উপপরিচালককে স্মারকলিপি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ১৪ জুলা ২০২৬ ০৮:০৭

সিলেট মহানগরীর হিজড়া ও ভিক্ষুকদের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও জেলা সমাজসেবা উপপরিচালককে স্মারকলিপি

Manual6 Ad Code

সুরমাভিউ:-  বৃহত্তর সিলেটের অরাজনৈতিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা (সিকস), সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা (সিবিযুকস) ও সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা (সিপ্রকস)-এর যৌথ আয়োজনে সিলেট মহানগরীর হিজড়া ও ভিক্ষুকদের চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে ১৪ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার বেলা ১১.৩০ ঘটিকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী (মাধ্যমঃ জেলা প্রশাসক, সিলেট) ও দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেট জেলা অফিসের উপ-পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

Manual3 Ad Code

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের সামনে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা আগামী ১ মাসের মধ্যে হিজড়া ও ভিক্ষুকদের চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগস্ট মাসে সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেট জেলা অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করার হুশিয়ারী প্রদান করেন।

Manual6 Ad Code

জাতীয় যুব দিবস ২০১০ এ জাতীয় যুব পুরস্কার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক পদকপ্রাপ্ত, সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানেকালে উপস্থিত ছিলেন সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিয়াজী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী মিলাদ, সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কবি কামাল আহমদ, মোঃ আলী হোসেন, মোঃ জালাল উদ্দিন, জামাল আহমদ, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাহেদ আহমদ শান্ত, সহ-দপ্তর সম্পাদক ফরিদ আলী, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সুহেল আলী খান, সহ-যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মহসিন উদ্দিন সুমন, যোগাযোগ ও সমন্বয় সম্পাদক শংকর বিশ্বাস, সহ-যোগাযোগ ও সমন্বয় সম্পাদক মোঃ পিকুল হোসেন সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক ফয়সল আহমদ, সিলেট মহানগর কমিটির সভাপতি জাকারিয়া মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাকের, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দদের মধ্য থেকে মোঃ সিকন্দর, মোঃ ইমন আহমদ ও হাফিজ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

স্মারকলিপির বিষয়বস্তুঃ আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী সিলেটে প্রতিদিন বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য লোকজন যাতায়াত করেন। শিকড়ের টানে সিলেটের অসংখ্য নাগরিক প্রবাস থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। সিলেট মহানগরীর স্থানীয় বাসিন্দা সহ লক্ষ লক্ষ সাধারণ জনগণ বিভিন্ন কাজে নগরীতে প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। চলাচল করতে গিয়ে সিলেট মহানগরীতে হিজড়া ও ভিক্ষুকদের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সিলেট মহানগরীতে হিজড়া ও একশ্রেণীর পেশাদার ভিক্ষুকদের চাঁদাবাজি এবং হয়রানিমূলক আচরণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহানগরীর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপনার সদয় অবগতির জন্য নিচে মূল সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলোঃ
জনসাধারণকে হেনস্থা: রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলষ্টেশন, বিমানবন্দর ও ট্রাফিক সিগন্যালে সাধারণ পথচারী এবং যানবাহনের যাত্রীদের পথ আটকে জোরপূর্বক টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা কম দিতে চাইলে চরম অশোভন আচরণ ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটছে। ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ: স্থানীয় দোকানপাট ও শপিংমলগুলোতে দলবদ্ধভাবে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাসাবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ: নবজাতক শিশু বা যেকোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানের খবর পেলেই বাসাবাড়িতে গিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। নকল হিজড়া ও সুস্থ ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্য: প্রকৃত হিজড়া ও বিকলাঙ্গ ভিক্ষকদের পাশাপাশি একশ্রেণীর অপরাধী চক্র কৃত্রিম উপায়ে নকল হিজড়া সেজে ও সম্পূর্ণ সুস্থ ভিক্ষুকরা বেপরোয়াভাবে এই চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করছে। হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জনগোষ্ঠী আমাদের সমাজেরই অংশ। আমরা তাদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী নই। কিন্তু সাহায্যের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে এবং জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমাদের বিনীত দাবি নিম্নরূপ: অতিসত্বর রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হিজড়া ও ভিক্ষুকদের এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হউক। হিজড়া সাজার আড়ালে থাকা নকল হিজড়া ও সুস্থ ভিক্ষুক বা প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হউক। প্রকৃত হিজড়া ও অসহায় ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করে সরকারি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হউক, যাতে তারা মূল স্রোতধারায় ফিরে সম্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

Manual8 Ad Code

অতএব, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সিলেট মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আপনার সদয় মর্জি হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ