অপপ্রচার, ভয়ভীতি ও ভোট কেনার অভিযোগ সিলেটে বিএনপির

প্রকাশিত:শনিবার, ০৭ ফেব্রু ২০২৬ ০৯:০২

অপপ্রচার, ভয়ভীতি ও ভোট কেনার অভিযোগ সিলেটে বিএনপির

Manual7 Ad Code

সুরমাভিউ:-  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সিলেট জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১টায় সিলেট–১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সকল সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

Manual5 Ad Code

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আজ আপনাদের মাধ্যমে আমরা সিলেটবাসীর সামনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক বিষয় তুলে ধরতে চাই।আপনারা অবগত আছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে যখন গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সুসংহত করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই একটি স্বাধীনতাবিরোধী ও অশুভ চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশজুড়ে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরেই ওই গোষ্ঠীটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এই অপপ্রচার শুধু একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়; বরং এটি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।

আমরা লক্ষ্য করছি, সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল কোমলমতি শিশু ও নারীদের বিভ্রান্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছে। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকাশ্য জনসভায় ধর্মকে ব্যবহার করে বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে—যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

এছাড়া নগরী ও সদর উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির তথ্য আমরা পেয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে প্রশাসনকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে ভোটের আগে ও পরে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Manual8 Ad Code

কয়েস লোদী বলেন, আমরা আরও অভিযোগ পাচ্ছি যে, আমাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থী প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে টাকা বিতরণের প্রমাণসহ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।

সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত তিনটিতে বহিরাগতদের অস্বাভাবিক আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

এ ছাড়া অবৈধ ব্যালট পেপার, সিল ও কালি উদ্ধারের ঘটনায় আমরা গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।

বিশেষভাবে আমরা উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ও সংরক্ষিত ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা প্রদর্শন ও বিতরণ করছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, এই তালিকা কেবল নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। কোনো প্রার্থী বা সমর্থকের এটি সংগ্রহ, সংরক্ষণ কিংবা বিতরণের কোনো আইনগত অধিকার নেই।

Manual5 Ad Code

এই অবৈধ কর্মকাণ্ড ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে, ভোটারদের মনে অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

আমরা অবিলম্বে এই বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কিন্তু এভাবে আচরণবিধির নগ্ন লঙ্ঘন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পঙ্খি ও বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন ও মাহবুব কাদির শাহি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ