বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড ছিল পরিকল্পিত ও জঘন্য – বিভাগীয় কমিশনার

প্রকাশিত:সোমবার, ১৫ ডিসে ২০২৫ ১০:১২

বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড ছিল পরিকল্পিত ও জঘন্য – বিভাগীয় কমিশনার

Manual7 Ad Code

সুরমাভিউ:-  সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেছেন, বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড ছিল পরিকল্পিত ও জঘন্য। স্বাধীন বাংলাদেশকে অংকুরেই বিনষ্ট করতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিজয়ের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে হত্যা করা হয়।তিনি বলেন,আমরা যাতে স্বনির্ভর ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বেড়ে উঠতে না পারি তা বাঁধাগ্রস্ত করতেই মেধাবী বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করা হয়।তিনি বাংলাদেশকে একটি ইনক্লুসিভ জাতি রাষ্ট্র গঠনে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

Manual6 Ad Code

রোববার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, সিলেট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পদ্মাসন সিংহ।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার,সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মু: মাসুদ রানা,সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম।

Manual5 Ad Code

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা,সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত জেলা কমান্ড্যান্ট তাহিয়া আক্তার, সিনিয়র জেল সুপার মোছা: নাহিদা পারভিন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।

সভায় সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দীন, স্থানীয় সরকার সিলেট এর উপ-পরিচালক সুবর্ণা সরকার সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী আরো বলেন, জনগণের একতা বন্দুকের গুলির চেয়ে শক্তিশালী। যারা বন্দুকের গুলিকে শক্তিশালী মনে করেছে তারাই ঐক্যবদ্ধ জনতার শক্তির কাছে বারবার পরাজিত হয়েছে।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আগমুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর বাঙালি জাতিকে সকল দিক দিয়ে মেধাশূন্য করে দিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় । এরই প্রেক্ষিতে ১৪ ডিসেম্বর এদেশ হারিয়েছিল তাঁর সূর্য সন্তানদের। তিনি বলেন, অন্যায়ের কোন রং নেই। প্রত্যেক কষ্ট, নিপীড়ন, অবিচার এবং বৈষম্যের রং এক। অদম্য এ জাতিকে কোনভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না৷ যতবার এ জাতি বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে ততবারই সে প্রতিবাদী কণ্ঠে ঘুরে দাড়িয়েছে।

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, চব্বিশ আমাদের একটি অভ্যুত্থানেের নাম,চেতনার নাম।দেশে ইনক্লুসিভ রাজনৈতিক কালচার গড়ে উঠবে,সবাই মানচিত্র ধারণ করবে।সবাই বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।এটাই আমাদের প্রত্যাশা।যারা দেশের মালিকানা ধারণ করে সেই নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসুক,সেটাই জনগণের দাবি। তিনি বলেন,আগামী নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির উৎসবে পরিণত হবে। যারা ক্ষমতাসীন তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিবেন।সুবিচার, অধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

তিনি আগামী নির্বাচনে মানবতাবাদী ও মানবপ্রেমী প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের দুঃখ-কষ্টে যাদের চোখের পানি ঝড়ে, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য যারা লড়াই করে, যারা এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রকে বুকে ধারণ করে সেধরনের মানুষকে বেছে নিতে হবে। সকলের অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সে নেতৃত্বই তুলে আনার
আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে এদেশের বুদ্ধিজীবীদের হারিয়েছি। এ শূন্যতা অপূরণীয়। তবে আমরা স্বাধীনতার পরে সে মানের বুদ্ধিজীবী তৈরি করতে পারিনি৷ শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, মাদকের কড়াল গ্রাস ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশে মেধাসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী তৈরি করতে হবে।

এদিন সকালে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নগরীর চৌহাট্টাস্থ শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ