সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতার দাপটে অন্যেমর ভূমি দখল আতংকে স্থানীয়রা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৯ জুলা ২০২৫ ০৮:০৭

সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতার দাপটে অন্যেমর ভূমি দখল আতংকে স্থানীয়রা

Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:-  সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে আওয়ামী লীগ নেতা ও বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন খাঁন পরিবারের বিরুদ্ধে এক সৌদি প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে দৌড়ঝাঁপ করেও ফিরে পাচ্ছেননা জমি।
জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়ন  চেয়ারম্যান মিলন খাঁনের পিতা আব্দুশ শহীদ খাঁনের কাছ থেকে দলিলমূলে ভূমি ক্রয় করেন একই ইউনিয়নের  বাগানবাড়ি নিবাসী মৃত আব্দুল মুনাফের ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. আব্দুর রশিদ। সৌদি থাকা অবস্থায়   ২০০৪ সালে তার ভাইদের মাধ্যামে বোগলা বাজারের জনচলাচল রোডের পাশে ১৮ শতক ভূমি চেয়ারম্যান মিলন খাঁনের পিতা আব্দুশ শহীদ খাঁনের কাছ থেকে দলিলমূলে ক্রয় করেন। এবং দখলও বুঝিয়ে দেন। জায়গাটি বুঝে পাওয়ার পর ৫ বছর বাউন্ডারি দিয়ে সংরক্ষণে রাখেন। গত ইউনিয়ন নির্বাচনে মিলন খাঁনের পক্ষে না থাকায় ক্ষেপে যান চেয়ারম্যান। বিজয়ী হয়ে রাতেই জায়গার চারদিকে দেয়া বাউন্ডারি জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ভেঙে ফেলে দখলে নেন। এবং সেখানে গড়ে তুলেন চোরাই গরুর খামার। আওয়ামীলীগের ক্ষমতাসীন নেতা হওয়ায় সীমান্তও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।  প্রশাসন ছিল হাতের মুঠোয়।  ক্ষমতার কারনে দখলমুক্ত করতে পারেননি ভুমিহারা আব্দুর রশিদ। গত বছরের ৫ আগষ্টের পর ভুমি ফেরত চাইলে আসে প্রাননাশের হুমকি। এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসনে অভিযোগ ও মানববন্ধন করেও মিলছে না সমাধান।
স্থানীয় অনেকেই জানান, মিলন খাঁন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলার অন্যতম আসামি। তিনি পালিয়ে থাকলেও এলাকায় তার ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা। পটপরিবর্তনের পর দেশে এভাবে অনেকে হারানো সম্পদ ফিরে পেলেও এখানে তার শক্তির কাছে অসহায়।
ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদের ছেলে পায়েল আহমদ জানান, চেয়ারম্যান মিলন খাঁন জোরপূর্বক বোগলাবাজারের মেইন রোডের আলমখালি মৌজার ১৫ জে.এল. নং ১৩৮/৪৩৮, ৫২৫ নং দাগের ১৮ শতক জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা ও গুমের হুমকি দেন।প্রাননাশের ভয়ে আছি। প্রশাসনের কাছে দাবি দ্রুত ভুমি দখলমুক্ত করে আমাদের ফিরিয়ে দিন।
শাহজাহান মিয়া জানান, সৌদি প্রবাসী আব্দুর রশিদ ২০০৪ সালে মিলন খাঁনের পিতা শহীদ খাঁনের কাছ থেকে এই ভূমি ক্রয় করেন। কিন্তু ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন না করায়, চেয়ারম্যান মিলন খাঁন কর্তৃক বিএনপি’র আব্দুর রশিদ পরিবারের উপর ষড়যন্ত্র শুরু করেন।  দলবল নিয়ে আব্দুর রশিদের ক্রয়কৃত ভূমির বাউন্ডারি ভেঙে দখল করে নেন।এরপর থেকে জায়গা তিনি ফেরত পাননি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ভূমির মালিকানা দাবি করায় চেয়ারম্যান মিলন খাঁন বিভিন্নভাবে ক্ষতি করেছেন আব্দুর রশিদের পরিবারকে। ২০১২ সালে আদালতে মামলা করেও কোনো ফল পাননি তারা। উল্টো মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের  হুমকি দেয় চেয়ারম্যারন পরিবার।পরে বাধ্য হয়ে মামলা তুলে নিতে হয়।
আব্দুর রশিদ বলেন, আমি সৌদি বসবাস করি। সৌদি থাকা অবস্থায় ১৮ শতক জায়গা ক্রয় করি মিলন খাঁনের পিতা আব্দুস শহীদ খানের কাছ থেকে। জায়গাও তারা দখল বুঝিয়ে দেন। কয়েকবছর দখলেও ছিলান। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আমার পরিবার ভোট না দেয়ায় তিনি জোর করে জায়গাটি দখলে নেন।  প্রশাসনের কাছে দাবি আমার জায়গা ফিরিয়ে দিয়ে ন্যায় বিচারে এগিয়ে আসুন।
চেয়ারম্যান মিলন খাঁনের পিতা আব্দুশ শহীদ খাঁন বলেন, আমি আব্দুর রশিদের কাছে ৩ দাগে ভূমি বিক্রি করেছি। যে ভূমি আমাদের দখলে আছে, সেটি আব্দুর রশিদের ভূমি নয়। তার ভূমি আমার ভোগ দখলীয় ভূমির পাশে পুকুরপাড়ে। কিন্তু সে সেই ভূমি নিতে রাজি নয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মিলন খাঁন বলেন, আব্দুর রশিদের ক্রয়কৃত ভূমি দাগ অনুযায়ী বুঝিয়ে দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তারা এই ঘটনাকে দীর্ঘ করেছে। তারা যেসব দাগে ভূমি ক্রয় করেছে। সেটা না নিয়ে আমাদের দাগে জমি দাবি করে বসেছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ দেয়ার পর প্রবাসী আব্দুর রশিদের আপন ভাই জাহেদের সাথে আলাপ চলছে ঘটনার আপোস মিমাংসা হবে। তবে ধৈর্যের সাথে একটু অপেক্ষা করতে হবে।
দোয়ারাবাজার থানার এস আই মোহন জানান, ভুমি সংক্রান্ত বিষয় আদালত দেখেন। ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত বিষয় থানা দেখেন। তবুও সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমি চেষ্টা করছি। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ