১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০২ জানু ২০২৫ ০৭:০১
নুরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ:- হবিগঞ্জে গত এক বছরে বৈষম্যবিরোধি আন্দোলন, আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশক্রতা ও জমিজমা নিয়ে বিরোধসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ৩৬ জন শিশু ও নারী-পুুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলায় এসব হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহতের সংখ্যা দাড়িয়েছেন বানিয়াচং উপজেলায়। বিভিন্ন গনমাধ্যমে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বছর জেলায় ৩১ খুনের ঘটনা ঘটে। এ বছর বৈষম্যবিরোধি আন্দোলনে হত্যা কান্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে অধিকাংশ খুনের সঙ্গে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কমছে না হত্যাকান্ড। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সব সময় তৎপর প্রশাসন। সংঘর্ষ ও অপতৎপরতা রোধে ভূমিকা রাখছে পুলিশ। আগামীদিনে জন সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে পুলিশ।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এক বছরে জেলার বানিয়াচং ও চুনারুঘাটে সবচেয়ে বেশি হত্যাকান্ড হয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ে ১৬ ও চুনারুঘাটে ৯ খুনের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ৯ মে বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামে সিএনজি স্ট্যান্ডের টুকেনের টাকা নিয়ে দুই গোষ্ঠির সংঘর্ষে ৪ জন ও ৫ আগষ্ট বৈষয়ম্যবিরোধি আন্দোলনে ১০ জন ও সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর পাহাড়পুরে দু’ পক্ষের ১ জন নিহত।
চুনারুঘাটে গত বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা জানুয়ারি রাণীগাঁও ইউনিয়নে ১, ১১ ফেব্রুয়ারি বালিয়ারী গ্রামে টমটম চালক খুন, ২২ ফেব্রুয়ারি আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চিমটিবিল খাস গ্রামে খুন ১, ২৭ মার্চ দক্ষিণাচরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে খামারবাড়ী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার, ২১ মে লাতুরগাঁও গ্রামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা, ৭ জুলাই গণকিরপার গ্রামে দোকানের পাওয়া টাকা নিয়ে খুন ১, ১৫ আগষ্ট রাণীগাও গ্রামে ১ ব্যক্তিকে হত্যা করে মালামাল লুট, ২৯ আগস্ট রাণীগাঁও এলাকায় ১ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার, ১০ সেপ্টেম্বর রঘুনন্দন হিল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, ১৩ অক্টোবর দেউন্দি চা বাগানের ফুলছড়ি টিলায় এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা, ২১ নভেম্বর হাপ্টার হাওর গ্রামে ১ ব্যক্তি খুন, ২৮ নভেম্বর চন্ডীছড়া চা বাগানে পানির কুপ থেকে দেড় বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বৈষশ্যবিরোধি আন্দোলন, আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশক্রতা ও জমিজমা নিয়ে বিরোধসহ বিভিন্ন কারণে হবিগঞ্জ সদরে ২ জনসহ জেলার ৭টি উপজেলায় ১০ থেকে ১১ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সব সময় তৎপর রয়েছে পুলিশ। যে সংঘর্ষ ও অপতৎপরতা রোধে পুলিশ ভুমিকা রাখছে। আগামীদিনে জন সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে পুলিশ’। কোন ধরনের অপতৎপরতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি তাৎক্ষনিক পুলিশকে জানানোর আহবান জানান তিনি।
Helpline - +88 01719305766