হবিগঞ্জে পরিচয় ফিরে পেল সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসে ২০২৪ ০৬:১২

হবিগঞ্জে পরিচয় ফিরে পেল সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজ

Manual1 Ad Code

নুরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ:-  দীর্ঘদিন পর নিজস্ব পরিচয় ফিরে পেল  হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত সৈয়দ সঈদউদ্দিন কলেজ। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের কলেজ পরির্দশক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকারের স্বাক্ষরিত পত্রে স্বারক নং ০৭ (সি-১৬৩) জাতীয় বিঃ/কঃপঃ/কোড ১৮০৫/৪৯৩৪ পত্রে পূর্বের নাম সৈয়দ সঈদউদ্দিন কলেজ পূর্ন বহাল করার কথা জানান। কলেজটি পূর্বের নাম ফিরে পাওয়ায় প্রাত্তন শিক্ষার্থী ও এলাকারবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে উপজেলার সুশীল সমাজ মাধবপুরের আপামর জনসাধানের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষে মাধবপুর মহাবিদ্যালয় নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ১ বছর যেতে না যেতেই আর্থিক সংকটের কারনে কলেজটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে ১৯৮৮ সালের ২১ আগস্ট হবিগঞ্জের তৎকালিন জেলা প্রশাসক হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কলেজ পরিচালনা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ সভায় কলেজটি টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্প গ্রুপ সায়হাম পরিবারকে দায়িত্ব নিয়ে সায়হাম গ্রুপের পরিচালকবৃন্দের পিতা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য সৈয়দ সঈদ উদ্দিনের নামে নাম করণ করার অনুরোধ করেন। জেলা প্রশাসকসহ সকলের অনুরোধে সায়হাম গ্রুপের সকল পরিচালকবৃন্দ কলেজের দ্বায়িত্ব নিয়ে নগদ ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে কলেজের নাম করণ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের যাবতীয় বিধি বিধান ও শর্তাধি পুরন কল্পে কলেজটি সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজ নামে অনুমোদন পায়। এমপিও ভুক্তি পূর্বে প্রায় ৭ বৎসর কলেজের শিক্ষকসহ সকল স্টাফদের বেতন সায়হাম পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কলেজের জমি ক্রয়, অবকাঠামো, একাডেমীক ভবন, সীমানা প্রাচীরসহ শিক্ষকদের বেতনসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেন। পরে কলেজটি এমপিও ভুক্তি হওয়ার পর কয়েকটি বিষয়ে অনার্স ডিগ্রী চালু করা হয়। এতে হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে অন্যতম কলেজ হিসাবে পরিগনিত হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে আওয়ামীলীগ সরকারের তৎকালিন বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড. মাহবুব আলী সর্ম্পূন অন্যায় ভাবে সৈয়দ সঈদউদ্দিন কলেজের নাম পরিবর্তন করে তার বাবা মাওলানা আছাদ আলীর নামে নামকরণ করেন। এতে সমগ্র উপজেলায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারা এবং এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারন কলেজটি পূর্বের নামে ফিরে পেতে শিক্ষা উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেন। তাদের আবেদনের ফলে ১৭ তারিখ বিশ^ বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় মাওলানা আছাদ আলী কলেজের নাম বাতিল করে পূর্বের নাম সৈয়দ সঈদ উদ্দিন কলেজের নাম বহাল করে সার্কুলার জারি করা হয়। কলেজের শিক অধ্যাপক মিজানুর রহমান জানান-বিজয়ের মাসে সত্যের জয় হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ কলেজের নাম এখন পূর্বের নামে বহাল রেখেছে। এতে সবাই খুশি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম তানজিল ও মাহাদি জানান কলেজের পুরনো নাম ফিরে পাওয়ায় অনেক ভাল লাগছে।

Manual6 Ad Code

প্রাত্তন শিক্ষার্থী মোঃ মাসুকুর রহমান মাসুক জানান ওই সময়ে জেলা সদর ব্যতিত অন্য কোথায় কলেজ না থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতেন। সায়হাম পরিবার এ কলেজ প্রতিষ্টার ফলে মাধবপুর, নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পেরেছে। পূর্বের নাম পূর্ন বহাল করায় খুবই ভাল লাগছে।

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ