বিএনপির গণঅবস্থানকালে সতর্ক পাহারায় থাকবে আ.লীগ

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৬ জানু ২০২৩ ১০:০১

Manual4 Ad Code

বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

Manual6 Ad Code

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ভাতৃপ্রতীম ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের যৌথসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

আগামী ১১ জানুয়ারি সারা দেশে গণঅবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভবিষ্যতে কী হবে জানি না…। তবে, আমরা সতর্ক পাহারায় থাকব। আমরা কাউকে আক্রমণ করব না। আক্রান্ত হলে উদ্ভূত পরিস্থিতি কী জবাব দেবে, প্রশাসন জবাব দেবে না কি পার্টি দেবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।’

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ‘আপনি আমাকে বারবার মারবেন, আমি চুপ করে থাকব? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাব? এটা কি হয়? এটা হয় না। আমরা সারা দেশেই আগে যেমন ছিলাম, তেমনই সতর্ক অবস্থায় থাকব।

আগামী নির্বাচন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সময় আরও এক বছর। সময় গড়িয়ে যাবে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রে অনেক পানি বয়ে যাবে। অনেক পরিবর্তন হবে। গতবারও তো বিএনপি ২১ দল নিয়ে বলল, ইলেকশন করবে না। শেষ পর্যন্ত ইলেকশনে এসেছে। এখন কিছু কিছু দল আছে—জিরো প্লাস জিরো প্লাস জিরো। এখন তারা থাকলেও কী, না থাকলেও কী? আমি কাউকে উপহাস করছি না। ডেমোক্রেসিতে অনেক দল আছে; সাইনবোর্ডে, অনেকে লেটারহেডে আছে। এই ঐক্যের ভবিষ্যৎ কী?’

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, জনসমাগম করার জন্য তাদের নেতৃত্ব প্রয়োজন। কে নেতৃত্ব দেবে এই আন্দোলনকে? কে নেতৃত্ব দেবে আগামী নির্বাচনে? সেই লোকটি কে? তারা তো নির্বাচনের যোগ্য না। যে দুজনের কথা বলবেন—একজন লন্ডনে, আরেকজন জেলে। জেলে মানে শেখ হাসিনার উদারতায় বাসায় আসছে। কিন্তু, সি ইজ কনভিক্টেড।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) ১০ তারিখে আসবেন, ৩০ তারিখে আসবেন শুনলাম। আসলে দেশে ফিরে আসার সৎসাহস তার আছে বলে বাংলাদেশের লোক এখন আর বিশ্বাস করে না।’

Manual2 Ad Code

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘দেশের বিচার ব্যবস্থা কি পরাধীন? দেশের বিচার ব্যবস্থা কি সরকারের অধীন? সরকারের কত লোক আজ কারাগারে। সরকারের কত লোক দুদকের মামলায় হাজিরা দিচ্ছে। তারপর দুদকের মামলায় অনেকেই কারাগারে আছেন। অনেকে কনভিক্টেড হয়ে গেছে। আমাদের এখানে তো বিএনপিরও অনেকে জামিন পাচ্ছে। পায়নি?’

ওবায়দুল কাদের জানান, সাবেক আমলা কবির বিন আনোয়ারকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত বসতে বলেছেন।

‘নেত্রী তাকে (কবির বিন আনোয়ার) অফিসে নিয়মিতভাবে বসতে বলেছেন। নিশ্চয়ই তাকে কোনো বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। কী দায়িত্ব দেবে, এখনো আমি জানি না। তিনি আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন। তাকে দায়িত্ব দিলে জানতে পারবেন। এত তাড়াহুড়া করার কিছু নাই।’

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইউসূফ হাসান হুমায়ুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক নাজিবুল্লাহ হিরু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, সাধারণ উম্মে কুলসুম স্মৃতি, যুব মহিলা লীগের সভাপতি আলেয়া সারোয়ার ডেইজি উপস্থিত ছিলেন।