মৌলভীবাজারে হাওর রক্ষা আন্দোলনের মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ০৭:০৫

মৌলভীবাজারে হাওর রক্ষা আন্দোলনের মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ

Manual1 Ad Code
মোঃ তাজুদুর রহমান, মৌলভীবাজার:-  হাওর রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান, অকাল বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রাণ-আরএফএল, ইসলাম এগ্রোভেটসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির হাওর দখল ও শিল্পায়নের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও কৃষক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আ স ম ছালেহ সোহেলের সভাপতিত্বে এবং এম খছরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— রনজিৎ দেবনাথ, সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ খায়রুল ইসলাম, শাহীন ইকবাল, হোসাইন আহমদ, সোনা মিয়া, শিপন মিয়া, দেওয়ান মুনাকিব চৌধুরীসহ হাওরপাড়ের কৃষক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে হাওর দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডারে পরিণত হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে তা দেশের গুরুত্বপূর্ণ শস্যভাণ্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখে। অথচ একদিকে সরকারের অবহেলা, অন্যদিকে প্রভাবশালী মহল ও বহুজাতিক কোম্পানির দখল-দূষণের কারণে কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শিল্পায়নের নামে প্রাণ-আরএফএল, ইসলাম এগ্রোভেটসহ বিভিন্ন কোম্পানি হাওরের ভূমি ও জলাভূমি দখলের চেষ্টা করছে। ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন, জলাভূমি ভরাট এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হচ্ছে। তারা বলেন, কোনো অবস্থাতেই হাওরের মাঝখানে পরিবেশবিধ্বংসী শিল্পায়ন ও অবৈধ দখল মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় হাজার হাজার একর পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে নানা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষক, বর্গাচাষী ও দিনমজুর কৃষকদের অনেকেই ক্ষতিপূরণের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বক্তারা অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরকে সংরক্ষিত জলাভূমি ঘোষণা এবং হাওর দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পরিশেষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর দুটি পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ