আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে

প্রকাশিত:রবিবার, ০৫ এপ্রি ২০২৬ ০১:০৪

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে

Manual3 Ad Code

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি প্রতিবেদনটি পেশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে। এর ফলে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ প্রশস্ত হলো।

অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপটি বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

Manual3 Ad Code

সংসদে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে গুম বিরোধী এই কঠোর আইনের প্রয়োগ আপাতত ঝুলে গেল।

Manual8 Ad Code

কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুম বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হচ্ছে না।

বিগত সরকারের আমলে ঘটা গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল, যেখানে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।

Manual7 Ad Code

সংসদীয় কমিটির এই স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আইনটি বাতিল করা হয়নি, বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি পরবর্তী অধিবেশনে বিল হিসেবে আসবে। একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা ছিল। এছাড়া ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

Manual4 Ad Code

তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এই সংস্কারগুলো বাতিলের মুখে পড়ল। প্রতিবেদনে ২০টি অধ্যাদেশের ওপর ভিন্নমত (নোট অফ ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অনেক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এখন সংসদীয় বিতর্কের মুখে পড়ল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ