নির্বাচনের ফল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল ইসরাইল

প্রকাশিত:Monday, 02 Nov 2026 10:11

নির্বাচনের ফল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল ইসরাইল

Manual8 Ad Code

বিদেশি হস্তক্ষেপ ও ভোট কারচুপির অভিযোগের মধেই ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের ফল নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

Manual6 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

দখলদারদের কমিশন বলেছে, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচন যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘোষিত ফলাফল ভোটারদের ইচ্ছারই প্রতিফলন। চলমান তদন্তের কারণে নির্বাচনের সামগ্রিক ফল নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

রোববার (১ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় এ অবস্থান জানান দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি, কমিশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা।

Manual1 Ad Code

নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাতার অথবা তুরস্ক অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়টি তদন্ত করছে শিন বেত। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন সোলবার্গ।

 

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তদন্তের পরিধি সীমিত এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই।

সোলবার্গ বলেন, অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়ায় তদন্ত করা হচ্ছে। তবে সন্দেহ মানেই প্রমাণ নয়। নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করতে হলে শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করা হবে।

Manual5 Ad Code

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাতে থাকা প্রমাণ দিয়ে পুরো নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। এমনকি অভিযোগের সত্যতা মিললেও তাতে সামগ্রিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া বা ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে না।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আগামী সপ্তাহে নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের পরও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। দলটির দাবি, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনের ফলাফলে এর কোনো প্রভাব পড়েনি বলে ঘোষণা দেওয়া বিস্ময়কর।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেয়েছে ৬৭টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। লিকুদের দাবি, মাত্র ৪ হাজার ৬১২ ভোটের ব্যবধানে একটি আসন এদিক-ওদিক হলে নির্বাচনের রাজনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারত।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা করছে লিকুদ।

এদিকে নির্বাচনের পর অনলাইনে আরববিরোধী বক্তব্য ও বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী দুই দিনে অনলাইনে আরববিরোধী বক্তব্য ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু ২৯ অক্টোবরই এ ধরনের বিদ্বেষ, উসকানি ও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগসংক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি পোস্ট ও উল্লেখ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে নির্বাচনের দিন ভোট কেনার অভিযোগে আটক রা’আম দলের তিন কর্মীর মধ্যে দুজনকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। তাদের সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের কোনো যোগসূত্র এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।