স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল প্রায় ৫৯ হাজার টাকা

প্রকাশিত:Monday, 26 Oct 2026 10:10

স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল প্রায় ৫৯ হাজার টাকা

Manual2 Ad Code

প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর দেশটির পণ্যবাজারে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রতি ভরিতে এই পতনের পরিমাণ প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা।

Manual4 Ad Code

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাইভমিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ জানুয়ারি ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দর সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ রুপিতে পৌঁছায়। তবে গত শুক্রবারের লেনদেন শেষে তা নেমে আসে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৪ রুপিতে।

অর্থাৎ, রেকর্ড দরের তুলনায় প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম কমেছে ৩৮ হাজার ৭৫৫ রুপি বা প্রায় ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

২৬ অক্টোবরের আনুমানিক বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ভারতীয় রুপি ১ টাকা ৩০ পয়সা ধরে হিসাব করলে ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম কমেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার ৪০০ টাকা। আর প্রতি ভরি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে এই দরপতনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু অক্টোবর মাসেই ভারতের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবান এই ধাতুর দর নিম্নমুখী রয়েছে। এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার মার্কিন ডলারের নিচে নেমেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও দুর্বলতা দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে দরপতনের পর নগদ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে কিছু বিনিয়োগকারী স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি করেছেন। মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে।

Manual4 Ad Code

ভারতে দীপাবলি উৎসব ও বিয়ের মৌসুমকে কেন্দ্র করে স্বর্ণালংকারের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Manual3 Ad Code

বাজার বিশ্লেষক পনমুদি আরের মতে, এমসিএক্সে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার রুপির স্তরটি গুরুত্বপূর্ণ। দাম এই সীমার ওপরে অবস্থান করলে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

Manual3 Ad Code

তবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগকারীদের আচরণের ওপর স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে। ফলে স্বর্ণের দাম আবার বাড়বে, নাকি আরও কমবে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ভারতের এমসিএক্সে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দরের এই পতন বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে স্বর্ণালংকারের দাম একই পরিমাণ কমার নির্দেশ করে না। বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে স্থানীয় চাহিদা, সরবরাহ, বিনিময় হার এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ঘোষিত দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ