২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৪ নভে ২০২৫ ১০:১১
বিশেষ প্রতিনিধি: দুইশ আটত্রিশটি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষণার পর থেকেই দলীয় প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন, শুরু করেছেন গণসংযোগ ও প্রচারণা। তবে প্রার্থী তালিকা ঘিরে ইতিমধ্যে দলে দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। অনেক জায়গায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। মনোনয়নবঞ্চিতদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, ঘোষিত আসনের মধ্যে অন্তত ২৩টিতে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে। এসব আসনে মনোনয়নবঞ্চিত প্রভাবশালী নেতারা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তারা দাবি তুলেছেন প্রার্থী পুনর্মূল্যায়নের। বিএনপির নির্বাচনসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতাদের তদন্তেও এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিএনপির হাইকমান্ড মনোনীত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে মনোনয়নবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রার্থীরা কেমন আচরণ করছেন, তা যাচাই করা হচ্ছে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দিয়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “কয়েকটি আসনে ক্ষোভ হতেই পারে। এসব আমরা ভালোভাবে হ্যান্ডল করছি। ফাঁকা সব আসন মিত্রদের জন্য রাখা হবে না; কিছু আসনে শিগগিরই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।”
দলীয় সূত্র আরও জানায়, যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বঞ্চিতদের মানভাঙিয়ে ঐক্য গঠনের। কেউ যদি এতে ব্যর্থ হন বা ঐক্য তৈরিতে বাধা দেন, তাহলে ধানের শীষের স্বার্থে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে হাইকমান্ড।
ঘোষিত তালিকার পর থেকেই অন্তত ২৩টি আসনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়। সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, মেহেরপুর, রংপুর, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মশাল মিছিল হয়েছে। কোথাও কোথাও সংঘর্ষেও জড়িয়েছে নেতাকর্মীরা।
এদিকে সিলেট বিভাগের কয়েকটি আসনে পরিবর্তন তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক সুত্র এগুলোর মধ্যে সিলেট ৪ (জৈন্তা-গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জ ),সিলেট ৬ (গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজার ) মৌলভীবাজার ১ (জুড়ি -বড়লেখা) হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর)
উল্লেখ যোগ্য।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, কিছু মনোনয়নবঞ্চিত নেতা ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বড় একটি রাজনৈতিক দলও তাদের প্রার্থী করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। এতে ভোট বিভাজনের আশঙ্কা থাকায় দলীয় প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি হাইকমান্ড।
মিত্রদের জন্য আসন ছাড় ও নতুন প্রার্থী ঘোষণা আসছে
ঘোষিত ২৩৭ আসনের বাইরে ৬৩টি আসন এখনো ফাঁকা রাখা হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এসব আসনের মধ্যে অন্তত ১১ আসনে শিগগিরই একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সম্ভাব্য আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ঢাকা-৯, ঢাকা-১৮, ঢাকা-২০, মাদারীপুর-২, গাজীপুর-১, টাঙ্গাইল-৫, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১, ঝিনাইদহ-৪ ও সিরাজগঞ্জ-১।
অন্যদিকে বাকি আসনগুলোর বেশির ভাগ মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
Helpline - +88 01719305766